কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে আহাদ, রিয়া, সামির, হোসাইন, মোবারক, তাহমিদ, ইফাত ও নাঈমাসহ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শিশুদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে।
গুলিতে শিশু নিহতের ঘটনায় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি করেন। এতে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ বেশ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে। হাইকোর্টের এখতিয়ারসম্পন্ন বেঞ্চে কার্যতালিকায় আসলে আবেদনটির ওপর শুনানি হবে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী।
অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে কোটা নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী ২৬৪ জন মারা গেছেন। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। আমরা আশ^স্ত ছিলাম যে সরকার একটা তদন্ত কমিটি গঠন করবে। সব মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করবে। কিন্তু জানতে পেরেছি শুধু ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করবে কমিশন।’
তিনি বলেন, ‘যে শিশুরা বাড়ির আঙিনায় ঘোরাফেরা করছিল তারা কেন গুলিতে মারা যাবে? কাদের কারণে কাদের গুলিতে এ মৃত্যুগুলো হলো তার জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন। এজন্যই তিন সদস্য বিশিষ্ট একটা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন ও নিহত প্রতিটি শিশুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আবেদনটি করেছি।’
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই থেকে কয়েক দিন কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অন্তত নয় শিশু গুলিতে মারা গেছে যাদের বয়স চার বছর থেকে ১৬ বছর। এর মধ্যে চারজন নিজেদের বাড়ি ও বাড়ির আঙিনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। এখনো গুলিবিদ্ধ অনেক শিশু চিকিৎসাধীন আছে।
