সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্ধ করে দেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রথম দফায় প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৪ আগস্ট রবিবার থেকে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন এবং নরসিংদী জেলার পৌর এলাকা ছাড়া অন্য জায়গার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
গতকাল বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আগামী রবিবার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকা ও নরসিংদী পৌর এলাকায় অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধই থাকবে। এই এলাকার বিদ্যালয়গুলো খোলার বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ফরিদ আহাম্মদ আরও বলেন, ‘ক্লাসের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আগের রুটিন অনুযায়ী পাঠদান চলবে। তবে সংশ্লিষ্ট জেলার কারফিউর সময় অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষের সময় কমানো কিংবা বাড়ানো যাবে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন।’
গতকাল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, সিলেট সিটি করপোরেশন, খুলনা সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন, রংপুর সিটি করপোরেশন ও বরিশাল সিটি করপোরেশন।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ১৬ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান) শ্রেণি কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরদিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ১৭ জুলাই সিটি করপোরেশনে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দেয়। এরপর ২৪ সারা দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পরবর্তী ঘোষণা দেওয়া পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতার পর চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সাতজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিশেষ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী জানিয়েছেন, বন্ধ থাকা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধাপে ধাপে খুলতে চান।
