সরকারি খামারে উৎপাদন বন্ধ ২৮ বছর

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৪, ০৭:২৮ এএম

রাজবাড়ীতে সরকারি হাঁস-মুরগির খামারে ২৮ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বাচ্চা উৎপাদন। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় বেশির ভাগ স্থাপনাই অকেজো হয়ে গেছে। জনবল সংকটসহ রয়েছে নানা সমস্যা। খামারটিতে বাচ্চা উৎপাদন না হওয়ায় সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলার সাধারণ মানুষ। কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক শেড স্থাপন না করা গেলে উৎপাদনে ফেরা সম্ভব না।

জানা যায়, সাধারণ মানুষের মাংসের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৮২ সালে রাজবাড়ী শহরের ভবানীপুর রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠে এই খামারটি। ২ দশমিক ৮৮ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা খামারটিতে তিনটি মুরগি পালনের গ্রোয়ার শেড, একটি ব্রডার শেড, হ্যাচারি, একটি গোডাউন, ব্যবস্থাপকের বাসভবন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আবাসিক ভবনসহ মোট ১৩টি স্থাপনা গড়ে ওঠে। এখন এর বেশির ভাগ স্থাপনাই অকেজো।

জেলা সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৬ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে বাচ্চা উৎপাদন। এই পরিসরে শেডগুলো সচল থাকলে বছরে ১ লাখ মুরগির বাচ্চা উৎপাদন, ১৮ থেকে ২০ হাজার মুরগি লালন-পালন ও দেড় হাজার ডিম উৎপাদনকারী মুরগি পালন করা যেত। এখন একটি ব্রডার শেড ও একটি গ্রোয়ার শেড চালু রয়েছে। বছরে ২০ হাজার মুরগি পালনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও পালন করা হচ্ছে ১২-১৪ হাজার মুরগি। অন্য জেলার সরকারি খামার থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করে লালন-পালন করে সেগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রয় করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী শহরের নতুন বাজার মুরগির ফার্ম বাসস্ট্যান্ডের সঙ্গে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কোল ঘেঁষে খামারে প্রবেশের মূল ফটক। ফটকের সাইনবোর্ডে বড় বড় করে লেখা রয়েছে সরকারি মুরগির প্রজনন ও উন্নয়ন খামার, রাজবাড়ী। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই হাতের বাঁ দিকে প্রশাসনিক ভবন, ডানে মুরগি বিক্রয় কেন্দ্র। একটু সামনে আগালে জরাজীর্ণ হ্যাচারি ভবন। হ্যাচারির পূর্বদিকে গুদামঘর, গেস্ট হাউজ ও ব্যবস্থাপকের বাসভবন। এর সামনে ব্যবস্থাপকের ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বাসভবনের পাশেই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের কোয়ার্টার। খামারের দুটি গ্রোয়ার শেডের চাল ও নেট জালের বেড়া ভেঙে পড়েছে। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা তাদের কোয়ার্টারের চালের ওপর পলিথিন দিয়ে পানি পড়া বন্ধ করে বসবাস করছেন। বেশিরভাগ পাকা স্থাপনার দেওয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। অকেজো সব ঘরের চারপাশে আগাছা জন্মেছে। একটি শেডে মুরগির বাচ্চা পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্রডার শেডে কিছু মুরগির বাচ্চাকে ব্রডার করা হচ্ছে।

রাজবাড়ী শহরের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামে মুরগির খামারি জসিম ম-ল বলেন, ‘আমার একটি সোনালি মুরগির খামার আছে। দেড় থেকে দুমাস পরপর খামারে মুরগির বাচ্চা কিনতে হয়। নিয়মিত মুরগির বাচ্চার দাম বেড়ে যাচ্ছে। বেসরকারি হ্যাচারি থেকে একটি মুরগির বাচ্চা কিনতে হয় ৩৫-৬০ টাকায়। অথচ সরকারি হ্যাচারিতে তা পেতাম মাত্র ১৫ টাকায়।’

রাজবাড়ী জেলা কৃত্তিম প্রজনন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আবুল কালাম বাশার বলেন, ‘আমি এখানে অতিরিক্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ১৯৯৬ সাল থেকে এখানে বাচ্চা উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সরকারের আর্থিক বরাদ্দ না থাকার কারণে হ্যাচারি চালু করা যাচ্ছে না। ১৪টি পদের মধ্যে মাত্র চারজন লোক এখানে কর্মরত আছে। এখানে তিনটি শেডের মধ্যে দুটিই অকেজো। একটি শেডে মুরগি পালন করা হচ্ছে। বছরে আমাদের ২০-২৫ হাজার মুরগি পালনের লক্ষ্য রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে আমরা ১২-১৪ হাজার মুরগি পালন করতে পারছি। তবে এই খামার যাতে চালু করা হয়, এজন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি দিয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত