উত্তাল রাজশাহী, শিক্ষার্থী-জনতার এক দাবি

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৪, ০৫:০৮ পিএম

কোটা সংস্কার আন্দোলনে দেশজুড়ে ‘ছাত্র-জনতা হত্যার দায়ে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে রাজশাহীর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিক্ষুব্ধ জনতা। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) গেট থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে অংশ নেন রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

এ সময় তারা ‘এক, দুই, তিন, চার, শেখ হাসিনা গদি ছাড়’, ‘দফা এক দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ’, ‘স্বৈরাচার, গদি ছাড়’, ‘খুনি হাসিনা, গদি ছাড়’, ‘শেইম শেইম, ডিকটেটর’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

এদিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে রাজশাহী মহানগর পুলিশের এক গোয়েন্দা সদস্যকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্য হলেন সাইফুল ইসলাম। তিনি সিটিএসবিতে কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন সাংবাদিককে লাঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার সকাল সকাল ১০টা থেকেই রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা। প্রথম দিকে তারা রুয়েটের ভেতরে আন্দোলন শুরু করেন। পরে তাদের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকেরা যোগ দিলে তারা মিছিল নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে এগিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা।

এ সময় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে অবস্থানকালে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে প্রধানমন্ত্রী ও উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদী দেয়াল লিখন লেখেন। এরপর বেলা পৌনে ১২টার দিকে নগরীর তালাইমারী-ভদ্রা হয়ে রাজশাহী রেলগেট অভিমুখে যাত্রা করে। এরপর দুপুর পৌনে ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত রেলগেটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে ভদ্রার মোড়ে এসে আগামীকাল রবিবার থেকে অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে দুপুর দুইটার দিকে কর্মসূচি শেষ করেন সমন্বয়কারী মেহেদী সজিব।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে নগরীর রেলগেট পর্যন্ত যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীরা তিনটি ট্রাফিক পুলিশ বক্স, একটি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ কার্যালয়, একটি রেলওয়ে গার্ড বক্স, একটি রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কার্যালয় এবং বেশ কিছু সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন।

এ বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্র-জনতা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক হাসানাত আলী, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ, উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আতাউর রহমান প্রমুখ বিক্ষোভে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত