বগুড়ায় তিনজন নিহত, টিএন্ডটিতে আগুন

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৪, ০৩:২৪ পিএম

বগুড়ায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারী ও যুবলীগের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে আহত হয়ে মনিরুল ইসলাম মনির (২৪) ও অজ্ঞাত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে রয়েছে বলে জানা গেছে।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শামসুন নাহার জানান, বেলা ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ মনিরুল ইসলাম মনির নামে এক যুবককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এ সময় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত যুবক মনিরুল ইসলাম মনির জেলার কাহালু উপজেলার বীরকেদার মীর পাড়ার গ্রামের বাসিন্দা।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, আহত অবস্থায় অজ্ঞাত দুই যুবককে জরুরি বিভাগে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তবে তারা কি কারণে মারা গেছেন তা তিনি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি। নিহতদের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে বেলা ১২টার দিকে শহরের টেম্পল সড়কে অবস্থিত ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের টিএন্ডটি অফিসে আন্দোলনকারীরা প্রবেশ করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় সেখানে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটর সাইকেল, তারের স্তুপ, গার্ড রুম, গ্যারেজ ঘর ও সিসি টিভি ক্যামেরা আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। অপর দিকে শহরের বিসিক এলাকার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর অফিস ও ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সামনের অংশ ভাঙচুর করে ও সামনের টিনের শেড ভেঙে ফেলে।

অপরদিকে রোববার বেলা ১১টা থেকে বগুড়া শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারীদের ঢাকা অসহযোগ আন্দোলনের মিছিল আসতে থাকে শহরের সাতমাথার দিকে। এদিকে শহরের সাতমাথায় যুবলীগ সকাল থেকে অবস্থান নিলেও পরে আন্দোলন কারীরা তাদের হটিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শহরের সাতমাথায় জেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সকাল থেকে অবস্থান নেয়। আন্দোলনকারীরা শহরের সাতমাথায় আসার চেষ্টা করলে যুবলীগের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় যুবলীগের নেতাকর্মীরা সাতমাথা থেকে দৌড়ে স্থান ত্যাগ করে। এদিকে যুবলীগের অবস্থানের বিষয়ে দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শহরের বড়গোলা হয়ে আন্দোলনকারীরা সাতমাথায় ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পুলিশ বাঁধা দিলে আন্দোলনকারীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে।

এদিকে সকাল থেকে শহরের কলেজ বটতলা, ফুলবাড়ি, বিসিক, মাটিডালী, কলোনী, দত্তবাড়ি, ইয়াকুবিয়া মোড়, মফিজপাগলার মোড়, ঠনঠনিয়া, পলিটেকনিক, বনানী এলাকা সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রধান বন্দরগুলোতে মিছিল ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত