কয়েক বছর ধরে দেশের তরুণদের মধ্যে স্টার্টআপ বা নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক তরুণই লেখাপড়ার পাশাপাশি বা পড়াশোনা শেষ করে নিত্যনতুন আইডিয়া নিয়ে ব্যবসায় করতে চাচ্ছেন। অনেকেই আছেন মার্কেট যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ব্যবসায় শুরু করেন এফ-কমার্সের মাধ্যমে। এতে আশানুরূপ সাফল্য পেলে নিতে চান আরও বড় চ্যালেঞ্জ। ঠিক তখনই প্রয়োজন হয় বাড়তি অর্থের। অর্থাৎ মূলধন। কিন্তু সবার পক্ষে মূলধন জোগাড় করা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা লোন এসব সম্ভাবনাময়ী উদ্যোক্তাদের স্বপ্নপূরণে ভূমিকা রাখবে।
ব্যাংকঋণ : দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এনজিও, যেমন গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা ইত্যাদি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের জন্য ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় ঋণ প্রদান করেন। তারা মূলত তৃণমূল পর্যায়ে এমন উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করেন, যাদের ক্ষুদ্রঋণ গুরুত্বপূর্ণ। ছোট এবং মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় পুঁজি জোগাড় করার ক্ষেত্রে ব্যাংকঋণ জনপ্রিয় মাধ্যম। বিভিন্ন ব্যাংক বিভিন্ন মেয়াদে, বৈশিষ্ট্যে এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় ঋণ দিয়ে থাকে। নিজের ব্যবসার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকঋণ খুঁজে বের করতে হবে। শুধু ভালো আইডিয়া থাকলেই ব্যাংকঋণ পাওয়া যায় না। বরং ব্যাংকঋণ পেতে কোম্পানির ভালো ট্র্যাক রেকর্ড এবং ভালো ক্রেডিট থাকা জরুরি। কোনো স্টার্টআপ ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টির দরকার পড়ে। ব্যাংকঋণ সাধারণত দুই ধরনের হয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল লোন ও ফান্ডিং। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল লোনের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে লাভের মুখ দেখেছে এমন উদ্যোগকে বাছাই করা হয়। অন্যদিকে ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন বাস্তবসম্মত এবং সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সংবলিত প্রোজেক্টগুলোকে বাছাই করা হয়।
আত্ম-অর্থসংস্থান : একটি স্টার্টআপ শুরু করার জন্য ব্যক্তির কিছু সঞ্চয় থাকা জরুরি, প্রাথমিকভাবে ছোট করে কাজটা শুরু করা যায়। জমানো টাকা বা আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবের থেকে নেওয়া অর্থ দিয়ে কাজ শুরু করাটাকে বুটস্ট্র্যাপিং বলা হয়। বড় ধরনের কোনো ব্যবসার জন্য এই ধরনের উৎস একমাত্র ভরসার জায়গা হতে পারে না। এগুলো ছোট ছোট উদ্যোগে বেশ ভালো কাজে আসে। ছোট ছোট উদ্যোগগুলো পরবর্তী সময়ে অনেক বড় হলেও প্রাথমিকভাবে বেশি টাকা-পয়সার দরকার হয় না।
সরকারি স্টার্টআপ ফান্ডিং : স্টার্টআপ উদ্যোগসমূহের জন্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বেশ কিছু ফান্ডিং প্রোজেক্ট হয়েছে। ফান্ডিংয়ের আওতায় সরকার বিভিন্ন মেয়াদে নতুন আইডিয়া সংবলিত স্টার্টআপ উদ্যোগসমূহে বিনিয়োগ করে থাকে। এসব ফান্ডিং পেতে বেশ কিছু স্ক্রিনিং প্রসেস পার করতে হয়। সরকারপ্রদত্ত স্টার্টআপ ফান্ডিংগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ইনোভেশন সার্ভিস ফান্ড, ইনোভেশন ফান্ড, আইসিটি ডিভিশন ফান্ড, স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইত্যাদি।
অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টিং : অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টিং বলতে বুঝায় যখন কোনো উদ্যোক্তা তার ব্যবসার স্টার্টআপের সময় কিংবা চলমান ব্যবসায় আর্থিক সংকটের সময় অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে ব্যবসার অংশীদারত্ব বিক্রির মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেন। অংশীদারত্ব কেনার মাধ্যমে যিনি বিনিয়োগ করেন তাকে বলা হয় অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর। অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর উদ্যোক্তার কোনো আত্মীয়, বন্ধু কিংবা পরিচিত শুভাকাক্সক্ষী হয়ে থাকেন। ব্যক্তির পাশাপাশি কোনো প্রতিষ্ঠানও অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারেন। ফান্ডিংয়ের সুবিধা হলো সহজেই ইনভেস্টর পাওয়া যায়। কিন্তু অংশীদারত্ব বিক্রির বিনিময়ে তিনি সঠিক পরিমাণ বিনিয়োগ পাচ্ছেন কি না তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যদিকে অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরকে নিজের প্রতিষ্ঠানের পার্টনার হিসেবে গ্রহণ করার পর পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে মতের মিল ধরে রাখাও কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ক্রাউড ফান্ডিং : ক্রাউড ফান্ডিং বলতে বোঝায় ব্যবসায় অনেক লোকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগ। ক্রাউড ফান্ডিংয়ে যারা টাকা তুলতে সহায়তা করেন, তাদের প্ল্যাটফর্ম বলা হয়। ক্রাউড ফান্ডে যারা অর্থায়ন করেন তাদের বলা হয় ব্রেইকার। তাদের প্রদত্ত অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার, স্বীকৃতি ইত্যাদি দেওয়া হয়।
