পোল ভল্টের কিংবদন্তি পেল অলিম্পিক

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৪, ০১:১৫ এএম

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হলেও তাকে নিয়ে আলাপ খুব একটা ছিল না। অবশেষে লাইমলাইটের নিচে এলেন আরমান্ডো মোন্ডো ডুপ্লান্টিস। সোমবার পুরো দিন অলিম্পিক চর্চা মানেই ঘুরে ফিরে আসছিল ব্রিটিশ কেলি হজকিনসন, মার্কিন নোয়াহ লাইলসদের নাম। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো ২৪ বছর বয়সী এ সুইডিশের দিকে মানুষের নজর ফেরে প্যারিসের সন্ধ্যায়। ডুপ্লান্টিস তার পোলটি নিয়ে দৌড় শুরুর কালে বারটি স্থাপিত ছিল ৬.২৫ মিটার বা সাড়ে ২০ ফুট উঁচুতে। ডুপ্লান্টিস লাফালেন, বারটি টপকালেন, গরম বাতাস ভেদ করে ডুপ্লান্টিস যখন নিচে নামছেন ততক্ষণে উল্লাস শুরু করে দিয়েছেন। পোল ভল্টের কিংবদন্তি মানা হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের সার্জে বুবকাকে। আদর করে তাকে ডাকা হতো ‘আকাশচারী’। প্যারিসে বিশ্বরেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জিতে সেই স্মৃতিই যেন ফিরিয়ে নিয়ে এলেন মোন্ডো।

৫.৯৫ মিটার বাধা পেরিয়ে রুপা জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্যাম কেনড্রিকস। ৫.৯০ মিটার পেরিয়ে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন গ্রিসের ইমানুয়েল কারালিস। পোল ভোল্ট ইভেন্টে টোকিও অলিম্পিকে আগেই স্বর্ণ জিতেছিলেন ডুপ্লান্টিস। তবে সেটি নিয়ে মাতামাতি খুব একটা হয়নি। ওইবার স্বর্ণ জেতার জন্য চারবার লাফাতে হয়েছিল। তবে পরে দেখা গেছে প্রথম দুটি কিংবা চতুর্থ লাফটির আসলে কোনো প্রয়োজনই ছিল না। তবুও অতটা চর্চিত তিনি হননি সেবার। তিন বসন্ত পর অবশ্য বদলে গেছে আমূল চিত্র। বিশেষ করে যখন আপনি সরাসরি ১৮টি প্রতিযোগিতা জিতে এসেছেন। পোল ভোল্ট ইতিহাসের দশ সর্বোচ্চ লাফের ৯টিই আপনার। এমনকি শেষ চার বছরে যখন আপনি ৮ বার বিশ্বরেকর্ড গড়ে এসেছেন। তাই সোমবার রাতে সবার চোখ ছিল দুজনের দ্বৈরথের দিকে। ডুপ্লান্টিস বনাম অভিকর্ষজ বল, মোন্ডো বনাম পদার্থবিদ্যার সূত্র, এখনকার ডুপ্লান্টিস বনাম চার মাস আগের ডুপ্লান্টিস। কেননা চার মাস আগে ৬.২৪ মিটার লাফিয়ে বিশ্বরেকর্ডটি যে নিজের নামে করে রেখেছিলেন মোন্ডো ডুপ্লান্টিস।

নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়া সেই কাক্সিক্ষত মুহূর্তের সামনাসামনি হতে কিছুটা সময় লাগে ডুপ্লান্টিসের। ৫.৫০ মিটার তিনি চেষ্টাই করেননি। ৫.৭০ মিটার বাধা পেরিয়েছেন এমনভাবে যেন মনে হয়েছে একটি বিড়ালের ওপর দিয়ে গেলেন। এভাবে অলিম্পিক রেকর্ড ৬.১০ মিটার যখন পাড়ি দেন মোন্ডো তখন হজকিনসনের জয়ের শোরগোল চলছে তীব্রভাবে। অবশেষে সেই মুহূর্ত এলো, তৃতীয় বা শেষ দফায় লাফাবেন মোন্ডো। স্টেডিয়াম জুড়ে এবার মোন্ডোর নামে শোরগোল। সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ কেবল তারই দিকে।

মোন্ডো দৌড় শুরু করলেন, কয়েক সেকেন্ড বাদেই বেঁকে গেলেন পোলের সাহায্য নিয়ে এবং বারটি পেরিয়ে মিশে গেলেন জনতার মধ্যে। বনে গেলেন ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’র জ্বলজ্বলে তারকা। প্যারিসের বাতাস ফুঁড়ে লাফ দিয়েছিলেন একজন রক্ত-মাংসের মানুষ। পেছনের সবাইকে ছাপিয়ে সর্বোচ্চ উচ্চতার বাধা পেরিয়ে মানুষ মোন্ডো ঠিকই নিচে নেমেছেন। পোল ভোল্ট ক্রীড়াটির কিংবদন্তি বনে যাওয়া মোন্ডো ডুপ্লান্টিসের জায়গা হয়েছে অমরত্বের পাতায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত