জুয়েল মোস্তাফিজের কবিতা

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৪, ১২:৪২ এএম

শনিবার

ভোরে বৃষ্টি হচ্ছে ঘুম ভিজে যাচ্ছে। আকুতি জ্বলে উঠছে। পানি পেয়ে লাশগুলো সবুজ ঘাস হচ্ছে। দ্রোহকালে জেগে থাকা মানুষের বুক একটা কুপি... তাতে এই বৃষ্টি কেরোসিন। ভোরে বৃষ্টি হচ্ছে। ঘুম ভিজে যাচ্ছে...

আকাশের মেঘ বুকে নেমেছে। বুকের পাহাড় থেকে তোড়ে তোড়ে নামছে ঢল। মহামতি ডুবে যাবে তুমি। ভোরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে। বুকে খুব আকুতি জ্বলছে...

পাগল লাশখানা আমার ভাই। অবুজ লাশখানা আমার শিশু। বেণি বান্ধা লাশখানা আমার বোন। দেশের কার্নিশ থেকে ছিটকে পড়া লাশফুলের বসন্ত ভিজে যাচ্ছে...

ভোরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে। ঘুম ভিজে যাচ্ছে। ঘুমের মাথা মুছিয়ে জেগে আছে লাশের আকুতি...

সোমবার

তোমাকে আমি মনে রাখি না। কারণ আমার মন। আমি কাঁদি না। কিন্তু খুব খুব কাঁদায় বলতে পারো। কারণ কান্না আমার কাছে বাড়তি পানি ছাড়া আর কিছু না। আমি কোনো কিছুই ভালোবাসি না। কারণ তোমার চেতনার ব্যবসা...

আমি নিজের সঙ্গে ব্যবসা করি। ভোরে লাভ, দুপুরে লোকসান। রাতে পাতে পাতে ভাতের দানা কীভাবে কীভাবে যেন বেহাত হয়। আমি নাকের কাছে ধন্য, বাঁকের কাছে দিশেহারা...

আমার ইগো আমার পুঁজি। আমার ইগোতে তুমি আঘাত করেছ। আমাকে তুমি রাজাকারের বাচ্চা বলেছ। ঘেন্নায় আমি আমার মরণ তোমার চেয়ারে ছুড়ে মারছি...

তুমি আগস্টের ব্যবসায়ী। আমি জুলাইয়ের ইগো। আমি আমার মায়ের শাল দুধ। আমার বাপ আমার খুব খুব। তুমি বাপের ব্যবসায় লাভজনক। আমি আমার বাপের বুকে কেবলই লোকসান...

আমি তোমার মতো বেহায়া না। তাই তো তোমার পুরনো থিওরি আমাকে বুঝতে পারছে না। আমি তোমার থিওরি বুঝি। তাই তো তোমার গালে ছুড়ে মারছি আমার মৃত্যু...

মঙ্গলবার

তুমি দখল কইর না। হতে পারে কারও মন। কারও দেহ। কিংবা তোমার নিজের চিবুকও। দেশ তো বহুদূর... দেশের মানুষ সেই দেশের মন। তুমি তা দখল কইর না...

১৫ বছর যদি দেহে একটা ফোড়া থাকে; অনেক ব্যথা হইলেও ফোড়াটার জন্য মায়া লাগে। হাজার হোক ব্যথার অভ্যাস তো। ভোরে করত পটপট। দুপুরে চুইতো রস। রাতের কোঁকানি যেন ব্যথার জোনাকি...

ফোড়াটা কাটার পর মায়া লাগছে। হাজার হোক দেহের ফোড়া তো... হাজার হোক ব্যথার অভ্যাস তো... হাজার হোক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ রক্তের লাল বসন্ত তো...

তুমি এসেছিলে ১৫ আগস্টের প্রতিশোধ নিতে। ঠিক আছে। কে সইতে পারে বাপের লাশ, ভাইয়ের রক্ত। মায়ের মুখ থেকে সরে যাওয়া মায়ার ঘোমটা...

আমরা জানতাম; তোমার চেয়ে আর কে জানে বাপের মরা মুখ। ভাইয়ের মরা বুক। মায়ের শেষ তাকানো। বাংলার ফুল-পাখির আর্তনাদ... তুমি জানতে আমরা ৩২ নম্বর বাড়ি। তেতত্রিশ নম্বর ঘড়ি। ২৪ ঘণ্টায় ঘড়ির কাঁটায় তরুণ রক্ত। অথচ তুমি দখল করলে ঘড়ির মন...

তুমি মারলে শিশু। শিশুটা বড় হয়ে স্কুলে যেত। তুমি মারলে স্কুল। স্কুলটা বড় হয়ে খাতায় খাতায় লিখত বুকের আওয়াজ...

তুমি কাঁচা মামলায় দেশটাকে আসামি করে আদালতে করলে নাজেহাল... তুমি দাবার ঘোড়াটা দখল করলে... রাজা নয়, উজির নয়, বড়জোর বড় হয়ে ঘোড়াটা মানুষ হইতো... তুমি মানুষ মারলে....

তোমার বঙ্গবন্ধু তো আমারও বঙ্গবন্ধু... আমি আগুন ছিলাম না। তুমিই পালিয়ে গিয়ে জ¦ালিয়ে দিয়েছ দেশের ৩২ নম্বর...

তুমি আমার জীবন দখলে নিলে। তুমি আমার মরণ দখলে নিলে। আমার কথা দখলে নিলে; আমার লেখা দখলে নিলে; তুমি আমার চিন্তাকে বানালে লাশ...

তুমি আর দখলে নিও না। তোমার গুলিতে আমি জুলাইয়ের মরা। আমিও আমার মায়ের বঙ্গবন্ধু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত