আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত গাজার একটি স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত ও আরও অনেকে আহত হয়েছে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হামাসের একটি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এটি পশ্চিমতীরে কয়েক মাসের মধ্যে অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলা হচ্ছে।
হামাস পরিচালিত গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় এক বিবৃতিতে গতকাল শনিবার জানিয়েছে, ফজরের নামাজের সময় বাস্তুচ্যুতদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল বিমান হামলা চালায়। রয়টার্স ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হামাসের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে ২০০০ পাউন্ডের বোমা হামলা চালানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজা সিটির বাসিন্দাদের আশ্রয়স্থল দারাজ তুফাহ শহরের একটি মসজিদসংলগ্ন আল-তাবাঈন স্কুলে অবস্থিত হামাস কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে হামাস সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালিয়েছে আইএএফ।
এতে আরও বলা হয়, হামলার আগে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সুনির্দিষ্ট অস্ত্র ব্যবহারসহ আকাশ থেকে নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ছাড়াও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এর আগে অধিকৃত পশ্চিমতীরের জেনিন শহরে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ওই বিমান হামলায় হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এ হামলায় তার একজন দেহরক্ষীও গুরুতর আহত হয়েছেন।
হামাস এবং অন্য দুটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, লেবাননের সীমান্ত থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে বন্দর শহর সিডনের দক্ষিণ প্রান্তে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় হামাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা সামের আল-হাজ নিহত হন। তিনি ফিলিস্তিনিদের নিকটবর্তী শরণার্থীশিবির আইন আল-হিলওয়েহতে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি অংশ কাতার ও লেবাননে বসবাস করেন। লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ হামাসের মিত্র।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ইসরায়েলের। গাজায় ইসরায়েলি অভিযান ও হামলা শুরুর পরদিন থেকেই হামাস ও গাজার জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। এরপর থেকে পাল্টা হামলা শুরু করে আইডিএফও। ১০ মাস ধরে গাজা উপত্যকা এবং ইসরায়েল লেবানন সীমান্তে সংঘাত চলছে।
