নরসিংদীর রায়পুরায় পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে আজিজুল ইসলাম নামে সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আজিজুল ইসলাম উপজেলার লিয়াকত আলী ভূঁইয়ার নাতি। সে রায়পুরার সেরাজনগর এমএ পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গতকাল রবিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সুমন মিয়া হত্যার প্রধান আসামি আবিদ হাসান রুবেল ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, গতকাল সকালে আজিজুল সেরাজনগর স্কুলে আসার পর আবিদ হাসান রুবেলের ছেলে আরিয়ান, রেজাউল করিম টুটুলের ছেলে আবির হোসেন, সাকিব, লিটনের ছেলে নাসির ও হাছেন আলীর ছেলে রোমান মিয়াসহ কয়েকজন মিলে হামলা চালায়। তারা আজিজুলকে মারার জন্য স্কুলের পেছনের গেট দিয়ে ঢুকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে স্কুল ভবনের তৃতীয়তলায় উঠে যায়। এর আগেও গত বুধবার তারা আজিজুলের ওপর হামলা চালায় বলে জানান ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
গত ২২ মে রায়পুরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সুমন মিয়া নির্বাচনী প্রচারণার সময় হামলা চালায় প্রতিপক্ষ প্রার্থী আবিদ হাসান রুবেল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই আবিদ হাসান রুবেল ও লিয়াকতের গ্রুপের মধ্যে পূর্ববিরোধটি পুনরায় সামনে আসে। সুমনের মৃত্যুর পর রুবেলসহ তার অনুসারীরা এক মাস পালিয়ে থাকার পর গত ২২ জুন পুনরায় এলাকায় এসে লিয়াকতের লোকদের ওপর হামলা চালায় রুবেল। এরপর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সদস্যরা কাজ করতে থাকেন। রুবেলকে ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু হলেও সে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকে সব সময়। এরপর আরও একাধিকবার লিয়াকত আলীর আত্মীয়দের ওপর গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় রুবেল সমর্থকরা। এ নিয়ে থানায় একাধিকবার অভিযোগ, জিডি, মামলাও হয়েছে। এগুলো ছাড়াও রুবেলের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ব্যাপারে ১০টি মামলা রয়েছে।
সবশেষ শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর আবিদ হাসান রুবেল বাহিনী আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পুলিশি কার্যক্রম স্থগিত থাকার সুযোগে তারা হামলা চালায় লিয়াকতের লোকদের ওপর। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল স্কুলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পৌঁছায় রায়পুরায় দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর একটি দল এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার। স্কুলে হামলার বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান ইউএনও ইকবাল হাসান।
