আন্দোলনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি স্টেশন বন্ধ রেখে এক সপ্তাহের মধ্যে চালু হচ্ছে মেট্রোরেল। তবে কোন তারিখ থেকে চলবে তা এখনো ঠিক হয়নি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার এক বছরের মধ্যে মেট্রোরেল চালু সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছিল।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ সোমবার মালবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার মেইল, এক্সপ্রেস, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন এবং ১৫ আগস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে চলবে আন্তঃনগর ট্রেন। আজ বিকেল ৫টা থেকে কেনা যাবে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট।
গতকাল রবিবার ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেট্রোরেল চালানোর জন্য প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছি আমরা। খুব দ্রুত মেট্রোরেল ভায়াডাক্ট দিয়ে চলাচল করবে। আমরা এখন ব্ল্যাক অপারেশন করব। চালুর তারিখ ঠিক হয়নি। হলে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. নাহিদ হাসান খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পারাবত ও জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। মেরামত শেষে তা আবার চালু হবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে গত ১৮ জুলাই দুপুরে ঢাকার মহাখালী ও নাখালপাড়া এলাকায় রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অবরোধের কারণে সেদিন দুপুর ১২টার পর ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে রেল কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে। এভাবে রেল চলাচল বন্ধের ঘটনা দেশে নজিরবিহীন হিসেবে উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তারা।
গত ১-৩ আগস্ট পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকার সময়ে স্বল্প দূরত্বে সীমিত পরিসরে কমিউটার ট্রেন চলাচল করেছে।
দুই স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর গত ১৯ জুলাই মেট্রোরেল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, কমিউনিকেশন সিস্টেম যদি ঠিক থাকে তাহলে মেট্রোরেল দুটি স্টেশন বন্ধ রেখে চালু করা যেতে পারে। কিন্তু সে সময় কর্র্তৃপক্ষ থেকে মেট্রোরেল চালু নিয়ে নেতিবাচক কথাই শোনা গিয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর মেট্রোরেল চালু নিয়ে তৎপর হতে দেখা যাচ্ছে কর্র্তৃপক্ষকে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিগত সময় দেখেছি অনেক স্টেশন বন্ধ রেখে মেট্রোরেল চালু করা হয়েছিল। যে স্টেশনগুলো ক্ষতি হয়েছে, সে স্টেশনের সরঞ্জামগুলো যেখান থেকে আনা হয়েছিল, সেখানে সে ডিজাইন অবশ্যই পাওয়া যাবে। কারণ এখনো মেট্রোরেলের পুরো কাজ শেষ হয়নি। তাই মেট্রোরেল কর্র্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা যদি থাকে, তাহলে এক বছরের কথা যে শোনা যাচ্ছে দুটি স্টেশন ঠিক হতে, এত সময় লাগার কথা নয়।’ তিনি আরও বলেন, মেট্রোরেলের যে দুটি স্টেশন সমস্যা সেগুলোও ধীরে ধীরে চালু করা সম্ভব। প্রয়োজনে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টিকিট কেটে সে স্টেশনগুলোও চালু করা যেতে পারে।
