তরুণদের ব্যাপকভাবে আইটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘দেশ ও দেশের বাইরে যারা আইটিতে দক্ষ এবং নতুন ধরনের কাজে আগ্রহী, তাদের নিয়ে আমরা একটি স্পেশাল টিম গঠনের কথা ভাবছি।’
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের প্রেক্ষাপট, বর্তমান কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জগুলো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলেও জানান।
তিনি বলেন, ‘তরুণদের ব্যাপকভাবে এই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। নতুন প্রকল্প গ্রহণের পেছনে অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতি করার উদ্দেশ্য থাকে। আমাদের যতটুকু প্রয়োজনীয়তা ও সামর্থ্য আছে, তার ভেতরেই আমাদের কাজ করতে হবে।’
সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে বলেও জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা। ছাত্র আন্দোলনে ‘সংহতি’ জানিয়ে বিনিয়োগ হারানো ‘টেন মিনিট স্কুল’সহ স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোয় অর্থলগ্নির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
নাহিদ বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিভিন্ন স্টার্টআপ শিক্ষার্থীরা পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদের প্রতি বিরূপ আচরণ করা হয় এবং বিনিয়োগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় যিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি খুবই স্বৈরতান্ত্রিকভাবে এ কাজটি করেছিলেন।’
কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ভবনের নিচে গভর্নমেন্ট আইসিটি অফিসার্স ফোরাম নামে একটি সংগঠন থেকে শ-খানেক ব্যক্তি নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে উপস্থিত হন। সঠিক মূল্যায়ন করা হয় না বলে অভিযোগ জানান। তারা বিভিন্ন দাবি জানান। সেøাগান দেন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, এই বিভাগে সিন্ডিকেট ছাড়া কাজ হয় না। নির্দিষ্ট কারও স্বজন ও কাছের লোকদের কাজ দেওয়া হতো। বিক্ষোভকারীরা এটু-আই ভুয়া বলেও সেøাগান দেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি সবার দাবি-দাওয়া শুনবেন, আলোচনা করবেন। আইসিটি বিভাগে কাঠামোগত সংস্কার করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সনীতি থাকবে।
গত রবিবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ নানা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চেয়ারম্যানের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নাহিদ বলেন, ‘এটা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে যারা ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল এবং লুটপাট, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও গণহত্যায় মদদ জুগিয়েছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।’
আইটি খাতে দক্ষ তরুণদের নিয়ে বিশেষ টিম : অন্তর্র্বর্তী সরকারের এই নতুন উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই তরুণরা নিজ উদ্যোগে স্টার্টআপ তৈরি করছে। একটি দক্ষ জনশক্তি আমাদের আইটি সেক্টরে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শক্তির ওপরই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি নির্ভর করছে। সেজন্য এই সেক্টরে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অবহেলার সুযোগ নেই। দেশ গঠনের বিপ্লবে তারুণ্যকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।’
ইন্টারনেট বন্ধে জড়িতদের ছাড় নয় : কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলনের সময় দেশ জুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, অবশ্যই তাদের বিচার করা হবে বলে জানান নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, এটি মানুষের মানবাধিকারের বিষয়। যারা এটি করেছেন, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। এটি বন্ধ করে শত শত মানুষ হত্যা করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এই সমন্বয়ক বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধে কারা জড়িত, তা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মূল্যায়ন করে আরও তদন্ত প্রয়োজন হয়, সেটি করা হবে। এতে যদি সরকারের কোনো লোক, সংস্থা বা মন্ত্রী কেউ জড়িত থাকেন, অবশ্যই বিচার করা হবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গত ১৭ জুলাই রাত থেকে মোবাইল ইন্টারনেট ও ১৮ জুলাই রাতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর পাঁচ দিনের মাথায় ২৩ জুলাই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত পরিসরে চালু করা হয়। আর ১০ দিন পর ২৮ জুলাই মোবাইলে ইন্টারনেট সেবা ফিরে আসে।
এরপর আবার সরকার পতনের আগের দিন ৪ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন ঘিরে দেশ জুড়ে ফোরজি নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগেও কয়েক ঘণ্টা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ থাকে।
টেন মিনিট স্কুলের বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনা : ছাত্র আন্দোলনে ‘সংহতি’ জানিয়ে বিনিয়োগ হারানো ‘টেন মিনিট স্কুল’সহ স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোয় অর্থলগ্নির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানান উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং পুনরায় তাদের সঙ্গে সরকারের একত্রে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) যে কাজ করার কথা ছিল, সেটি চালু করা হবে।
কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন চলার সময় গত ১৬ জুলাই টেন মিনিট স্কুলের ৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব বাতিল করার কথা জানিয়েছিলেন তখনকার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
ওই ঘটনার দুদিন আগে স্কুলটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আয়মান সাদিক চাকরিতে কোটা সংস্কারের পক্ষে ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘কোটা সংস্কার চাই, মেধা হোক সবচেয়ে বড় কোটা’। বিনিয়োগ বাতিলের পর আয়মান সাদিককে উদ্দেশ্য করে পলক বলেছিলেন, ‘দুর্জন বিদ্যান হলেও পরিত্যাজ্য’।
