অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবন-জীবিকার প্রকল্প চালু রাখা হবে। বড় বা মেগা প্রকল্পের অর্থছাড় বড় হয়, তাই এ বিষয়ে পরে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া এখন থেকে নিয়মিত সঠিক তথ্য দেবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
গতকাল মঙ্গলবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসিতে পরিকল্পনা কমিশন, মন্ত্রণালয়, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক শেষে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য সরবরাহ নিয়ে তিনি বলেন, বিবিএসকে সময় নির্ধারিত ডাটা কালেকশন করতে হবে। এখন থেকে নিয়মিত সঠিক তথ্য সরবরাহ করবে বিবিএস।
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা আছে। সাপ্লাই চেইন নেই। ৬ টাকার বেগুন টাকায় ৮০ টাকা কেন? বাজার মনিটরিং নিয়ে কাজ করব। সাপ্লাই চেইন ভেঙে গিয়েছিল, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধ্বংসও হয়েছে। আমি আশা করছি মূল্যস্ফীতি কমবে।
তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবতা ও বরাদ্দ কী হবে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থ অপচয় বন্ধ করতে হবে। বাইরের টাকা ইচ্ছেমতো খরচ নয়। স্বচ্ছতা জবাবদিহি ছাড়া কিছু চলবে না।
বার্ষিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, এটা নিয়ে চিন্তা করার কারণ রয়েছে। অনেক পিডি চার প্রকল্পের দায়িত্বে। চারটা প্রকল্পের দায়িত্ব মানে চারটি গাড়ি। এটা চলবে না। আমি অ্যাসেস করে দেব। অনেকে কম টাকা ব্যয় করতে পারে না। ক্লাইমেট বিরাট ব্যাপার, বন্যা হয়, পরিবেশের নামে অনেক টাকা খরচ হয়। প্রকল্পে সমন্বয়হীনতা আছে এটা দূর করতে হবে।
অর্থ উপদেষ্টা ডক্টর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এ মুহূর্তে মন্থর অর্থনীতিকে সচল করাই আমার মূল লক্ষ্য। এ নিয়ে আমার একটি পরিকল্পনা আছে। তবে আপাতত সে পরিকল্পনা আমরা বলছি না। সংস্কার করার পরিকল্পনা আছে তবে আমরা হয়তো শতভাগ করতে পারব না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটা গাড়ি পুরোপুরি আমরা পাল্টে ফেলতে পারব না, মেরামত করতে পারব। এছাড়া প্রকল্পে অর্থ অপচয় বন্ধ করতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যা দেখছেন এগুলো তো সংস্কারেরই অংশ।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অর্থ অপচয় বন্ধ করতে হবে। যেসব প্রকল্প জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে সাহায্য করে সেগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। মেগা প্রকল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে পরামর্শ প্রয়োজন। তাছাড়া, পোর্ট, রোডে আমরা এখন ইনভেস্টমেন্ট বেশি করব না, এখন জাতি গঠনের জন্য হেলথ ও এডুকেশনে বরাদ্দ বাড়বে।
তিনি বলেন, ক্লাইমেট চেঞ্জের নাম করে স্ট্রিট লাইট লাগানো হচ্ছে, এগুলোর ব্যয় যথাযথ করতে হবে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
