নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে মিতালি মার্কেটের তিনতলা থেকে ১০ বছরের এক শিশুকে নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিশুর নাম ফজলে এলাহি। ভবনের নিচে বালুর স্তূপের ওপর পড়ায় শিশুটি প্রাণে বেঁচে যায়। তবে তার হাত-পা ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে স্বজনরা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে আগে ওই মার্কেটের রনি ও নজরুল ইসলাম মোল্লাসহ বহু ব্যবসায়ীকে মারধর ও তাদের দোকানের মালামাল লুট করেছে চাঁদাবাজরা।
আহত শিশু ফজলে এলাহি মিতালি মার্কেটের ১ নম্বর ভবনের ৫৫ নম্বর এলাহি হোসিয়ারি দোকান মালিক নজরুল ইসলামের ছেলে। আহত অন্যরা হলেন ২ নম্বর ভবনের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মোল্লা (৩৮) ও ৩ নম্বর ভবনের ফ্লিম ফ্যাশনের মালিক রনি (৩০)।
শিশু ফজলে এলাহি জানায়, এক মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার চাঁদা নিতে দোকানে আসেন মাঈনুদ্দিন, মানিক ও আলামিন। এ সময় তাদের সঙ্গে আরও ৪০-৫০ জন লোক ছিল। চাঁদা দিতে না চাইলে দোকানের ক্যাশ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লুট করে নেয়। পরে তাকে ধরে নিয়ে যায় মার্কেটের তিনতলায়। সেখানে নিয়ে মারধর করে লাথি দিয়ে নিচে ফেলে দেয়।
ব্যবসায়ী রনি বলেন, সন্ত্রাস দমনের নামে জয়নালের সহযোগী লিটন মোল্লা, মাঈনুদ্দিন ও মহিউদ্দিনসহ ১০ থেকে ১২ জন মার্কেটে লুটপাট করছে। আমার গোডাউনের তালা ভেঙে প্রায় পৌনে ৩ লাখ টাকার মালাল লুট করেছে। চাঁদা না দিলে জয়নাল ব্যবসায়ীদের তার লোকজন দিয়ে ধরে অফিসে নিয়ে মারধর করে।
ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, জয়নালের লোকজন আমাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা ৩৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। আমাকে মার্কেটের আসতে নিষেধ করে দিয়েছে।
মার্কেটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মিতালি মার্কেটের প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কাছে থেকে দৈনিক ২০০ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছেন জয়নাল। মার্কেটের নিচে একটি অফিস করে ১০ থেকে ১৫ জনের বাহিনী গড়ে তুলে সাড়ে ৪ হাজার দোকান থেকে চাঁদা আদায় করে আসছেন তিনি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যবসায়ীরা চাঁদা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গত কয়েক দিন ধরে আবার চাঁদা নিতে আসছে জয়নালের লোকজন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই মারধর করে দোকানের মালামাল নিয়ে যাচ্ছে। তারা দলবল নিয়ে হঠাৎ করে এসে তান্ডব চালিয়ে দ্রুত চলে যায়। এখনো সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের কাজ ঠিকমতো চালু না হওয়ায় কোনো আইনি সহযোগিতা পাচ্ছি না।
অভিযুক্ত জয়নাল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের মোবাইল নম্বর বন্ধ। তারা গা-ঢাকা দিয়ে থাকেন বলে জানান স্থানীয়রা।
