পিলখানা হত্যায় শেখ হাসিনাকে দায়ী করলেন স্বজনরা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৪, ০৬:৪৩ এএম

আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহে পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপস ও শেখ সেলিমসহ শেখ পরিবার জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নিহত সেনা সদস্যদের পরিবার ও স্বজনরা। বিদ্রোহকে কথিত উল্লেখ করে পুরো ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড আখ্যা দিয়েছেন তৎকালীন বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) নিহত মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ।

গতকাল শনিবার রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত ‘পিলখানায় ৫৭ অফিসার ও ১৭ সিভিলিয়ান হত্যার বিচার চাই’ শিরোনামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন দাবি করেন। রাকিন বলেন, ‘এক আওয়ামী লীগ নেতা ফোন করে আমাকে বলেছিলেন, ওনার নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমার বাবা-মাকে জবাই দিয়েছেন। যদি বেশি বাড়াবাড়ি করি তাহলে বাবা-মার মতো আমাকেও জবাই দিয়ে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে জানা নেই, যেখানে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) অন্য একটা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে রাজধানীতে ৫৭ সেনা অফিসারকে হত্যা করে।’

রাকিন আহমেদ বলেন, ‘গত ১৫ বছরে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার বা তদন্ত আমরা মানি না। কারণ প্রধান যে হত্যাকারী, নির্দেশদাতা তিনি তখন ক্ষমতায় ছিলেন। খুনি কি তার নিজের বিচার করবেন? মুখ বন্ধ করে দেখতে হয়েছে, কেমন করে তদন্ত, ট্রায়াল প্রভাবিত করল, ডাল-ভাতের কথা বলল। নীরবতায় সহ্য করতে হয়েছে।’

রাজধানীর পিলখানায় ২০০৯ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) বিদ্রোহের সময় হত্যাকাণ্ডের মামলায় যেসব তদন্ত হয়েছে, সেসব তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন নিহত সেনা সদস্যদের স্বজনরা। এ ছাড়া ২৫ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ সেনা দিবস হিসেবে ঘোষণা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তও দোষীদের বিচার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিহত মেজর কাজী মোসাদ্দেক হোসেনের মেয়ে নাজিয়া বলেন, ‘আমাদের কষ্টের কথা যদি বলি, একই পরিস্থিতিতে এখনো যাচ্ছি। কষ্ট দূর হয়ে যায়নি। এর পেছনে অনেক ঘটনা ছিল। আমরা তো আমাদের স্বজনদের হারিয়ে ফেলেছি। মানুষ জানুক, এই হত্যাকাণ্ড কারা করেছে। কেন এত বছর পরও আমাদের মুভমেন্টে বাধা দেওয়া হয়।’

নিহত লেফটেন্যান্ট কর্নেল এনায়েতুল হকের মেয়ে নাবিলা বলেন, ‘এটা আন্তর্জাতিক চক্রের কাজ। আন্তর্জাতিক শক্তির দ্বারাই কাজটি করা হয়েছে। আপনারা বের করবেন আসল কারণ। এটা বিদ্রোহ নয়, এটা হত্যাকাণ্ড, পরিষ্কার হত্যাকাণ্ড। আমার বাবা মারা যাননি। হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিছু অপপ্রচারের জন্য আমরা হেনস্তা হয়েছি। এত দিন ভয়ে কথা বলিনি, আজ নির্ভয়ে কথা বলছি।’

 পিলখানায় তখন কী ঘটেছিল, সেসবের সত্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে আগে যেসব তদন্ত হয়েছে, সেসব তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করাসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরেন বিডিআর বিদ্রোহে নিহত কর্নেল কুদরত ইলাহী রহমান শফিকের ছেলে অ্যাডভোকেট সাকিব রহমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত