এবার আব্দুল আউয়াল মিন্টুর নেতৃত্বে ন্যাশনাল ব্যাংকের নতুন পর্ষদ

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৪, ০৮:১৬ পিএম

আবারও বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার বেসরকারি খাতের এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হচ্ছেন ব্যাংকটির অন্যতম শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পরিচালনা পর্ষদের নীতিনির্ধারণী দুর্বলতার কারণে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নীতিনির্ধারণী দুর্বলতার কারণে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি, ব্যাংকিং সুশাসন ও শৃঙ্খলা বিঘ্ন করার মাধ্যমে ব্যাংক-কোম্পানি এবং আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত) এর ৪৭ (১) এবং ৪৮(১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও জনস্বার্থে ব্যাংকটির বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হলো।

পাশাপাশি ন্যাশনাল ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদও গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- শেয়ারহোল্ডার আব্দুল আউয়াল মিন্টু, উদ্যোক্তা হোল্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ও শেয়ারহোল্ডার জাকারিয়া তাহের।

স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. জুলকার নায়েন, সীমান্ত ব্যাংকের সাবেক এমডি মুখলেসুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবিন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ম. আব্দুস সাত্তার সরকার।

এর আগে চলতি বছরের ৫ মে ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা খলিলুর রহমানকে এবার নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ওইসময় চেয়ারম্যান ও ৩ স্বতন্ত্র পরিচালকসহ ১০ সদস্যের পর্ষদ গঠন করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ই পর্ষদে ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান চেয়ারম্যান জয়নাল হক সিকদারের পরিবারের বোর্ডের ডিরেক্টর হিসেবে আর কেউ থাকেনি। গত ডিসেম্বরে করা পর্ষদের একমাত্র সদস্য ছিলেন সিকদার পরিবারের মেয়ে পারভীন হক শিকদার।

বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। ১৯৮৩ সালে ব্যাংকটির পথচলা শুরু হয়। এমন এক সময়ে ব্যাংকটির যাত্রা শুরু হয়েছিল যখন বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটে ছিল। সেই সময়ে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বেসরকারি খাতকে ব্যাংকিং খাতে আসতে উৎসাহিত করেছিল সরকার।

পরবর্তীতে ন্যাশনাল ব্যাংক দেশের অন্যতম ব্যাংক হয়ে ওঠে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল, কারণ তখন পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংক লাভে ছিল এবং এর তারল্য পরিস্থিতি ও ঋণ আদায়ের পারফরম্যান্স ভালো ছিল। তবে ২০০৯ সালের পর সিকদার গ্রুপ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। সে বছর ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা উল্লেখযোগ্য খারাপ হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত