এখনো পুরোদমে নাটকের কাজ শুরু হয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই তিনটি নাটকের শুটিং শেষ করেছেন এই সময়ের উদীয়মান তারকা আইশা খান। মাবরুর রশীদ বান্নাহ ও সহিদ উন নবীর পরিচালনায় দুটি নাটকের শুটিং করেছেন থাইল্যান্ডে, যেগুলোতে আইশার সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন ফারহান আহমেদ জোভান ও তৌসিফ মাহবুব। আর দেশে শুটিং করা নাটকটিতে তার সঙ্গে ছিলেন মুশফিক আর ফারহান।
অভিনেত্রী জানান, এই নাটকের শুটিং শিডিউল অনেক আগে থেকে দেওয়া ছিল। যে কারণে জুলাইয়ের শেষ দিকে মাত্র চার দিনের জন্য ব্যাংকক যান এবং দুটি নাটকের শুটিং শেষ করে দ্রুতই ফিরে আসেন, এরপর আবার দেশে অংশ নেন একটি নাটকের।
তিনি বলেন, ‘অনেক আগেই শিডিউল দেওয়া ছিল। আর আমি মাত্র চার দিন ছিলাম দেশের বাইরে। এরপর দেশে ফিরে আসি এবং একটা নাটকের শুটিং করি। একটা শুটিং ইউনিটে অনেক মানুষ থাকে, তাদেরও পরিবার আছে। এই সময়টাতে কাজ করতে চাচ্ছিলাম না কিন্তু তাদের কথা ভেবে করতে হলো।’
জানালেন, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে কাজের একটা বড় ব্রেক পড়ে গেল। আগামী মাস থেকে কাজে ফেরার পরিকল্পনা করছেন অভিনেত্রী।
শিল্পীদের পারিশ্রমিক নিয়ে নির্মাতা কিংবা প্রযোজকরা যে টালবাহানা করেন সেই বিষয় নিয়ে কথা বললেন আইশা খান। সেইসঙ্গে তুললেন পরিচালকের বিরুদ্ধে পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগও। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা যারা মূল চরিত্রে কাজ করি তারা নিজেরাই পারিশ্রমিক ঠিকমতো পাইনা। এমনকি আমি নিজেও ঠিকমতো পারিশ্রমিক পাই না। আগে নিজের প্রাপ্যটা পেলে তারপর তো সহশিল্পীদের কথা বলতে পারব।’
আহমেদ জিহাদ পরিচালিত ‘কানাগলি’ নামে একটি ওয়েবের কাজ শেষ করেছিলেন ২০২২ সালে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই কাজের পারিশ্রমিক পাননি বলে জানালেন আইশা। বললেন, ‘পরিচালককে ফোন দিলে বলে যে তার স্ত্রী অসুস্থ। তার পরিবারের সদস্য অসুস্থ হতে পারে, আমি বা আমার পরিবারের কেউ অসুস্থ হই না? ওই সময়টাতে একটু ঝামেলার মধ্যেই ছিলাম। আমার মামা ভীষণ অসুস্থ ছিল, সেটা জানিয়েছিলাম যে ওই মুহূর্তে টাকাটা খুব প্রয়োজন। পারিশ্রমিক তো দেয়নি এবং একটা বার সরি বলারও প্রয়োজন মনে করেনি। বুঝতে পেরেছি যে উনি আমার টাকাটা মেরে দিয়েছে। সহশিল্পীদের অনেকেই কথা বলেছে তবে কিছুই হয়নি। শুটিং শেষ হওয়ার পর একটা অ্যামাউন্ট দিলেও চল্লিশ হাজার টাকা বাকি ছিল। পরে দেবে বলে সেটি আর দেয়নি। প্রতিবারই কোনো না কোনো অজুহাত দেখিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্য কোনো পরিচালকের সঙ্গে আমার পারিশ্রমিক নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়নি। শুধুমাত্র এই একজন ছাড়া। তাই এখন ঠিক করেছি অগ্রিম পারিশ্রমিক নেব এবং সেটাই বলি। কারণ, আমি জানি সময়মতো আমি সেটে চলে যাব যদি আমি অসুস্থ না হয়ে যাই তাহলে কখনো শুটিং ফাঁসাব না। আমাকে নিয়ে এমন অভিযোগ কেউই দিতে পারবে না। আমি সর্বশেষ যেদিন দেরি করে সেটে যাই সেটা ছিল মাত্র ৩০ মিনিট, যেটা কি না গ্রহণযোগ্য।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুরু থেকেই প্রতিবাদে সরব ছিলেন। এরপর বিজয় এলো। নতুন এই দেশকে কীভাবে দেখতে চান বা কী পরিবর্তন দেখতে চান, এমন প্রশ্নে আইশার উত্তর, ‘সরকার যেই থাকুক আমি তো আলাদা করে সুবিধা পাব না। সেইটা নিয়ে আমি কী বলব? আমি কোনো দল করি না। তবে, হ্যাঁ, আমি যেটা চাই সেটা হচ্ছে শান্তি। শান্তি চাই। চাই সবাই সবার মৌলিক অধিকারগুলো পাক। এবার যে দাবিগুলো উঠেছে সেগুলো অবশ্যই যৌক্তিক দাবি। তাই দাবিগুলো যেন পূরণ করা হয়। এর থেকে বেশি আসলেই কিছুই চাওয়ার নেই। সরকার কতদিন থাকে আগে সেটা বুঝি তারপর তো দাবি জানাতে পারব। সরকার যদি ৩ থেকে ৬ মাস থাকে তাহলে তো বড় কোনো পরিবর্তন আসা সম্ভব না। যদি ৫ বছর ক্ষমতায় থাকে সেক্ষেত্রে হয়তো পরিবর্তন আশা করতে পারি।’
পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি অনুভব করছি শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা বড় পরিবর্তন প্রয়োজন। কারণ আমি যখন আমার কাজিনের বই খুলি, দেখি কিছুই নেই পড়ার মতো। অনেক জায়গায় পরিবর্তন চাই। শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন। দুর্নীতিতে বাংলাদেশকে অনেক পেছনে চাই। সড়ক ব্যবস্থার অনেক অনেক উন্নতি চাই। ট্যুরিজমের অনেক উন্নতি চাই। আমার চাওয়ার লিস্ট তো অনেক বড়। তবে প্রশ্ন হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার কত দিন থাকছে।’
