উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক

নির্বাহী আদেশে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম আর বাড়বে না

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ০৬:২২ এএম

পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকার খেয়ালখুশিমতো নির্বাহী আদেশে যেভাবে বিদ্যুৎ-জ¦ালানির মূল্যবৃদ্ধি করছিল, সেটি এখন আর হবে না। গণশুনানি ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ¦ালানির দাম নির্ধারণ করবে না সরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

ফলে গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের মূল্য সমন্বয় করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ।

এ ছাড়া গুমের ঘটনাগুলো তদন্তে একটি কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্র্বর্তী সরকার। যারা বিভিন্ন সময় গুমের শিকার হয়েছেন, সেসব গুমের কারণ কী, কারা দায়ী, তা তদন্ত করে দেখবে এই কমিশন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্র্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের ৩৪(ক) ধারা বিলুপ্ত করে অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে পাশ কাটিয়ে সরকার নির্বাহী আদেশে ইচ্ছেমতো বিদ্যুৎ-জ¦ালানির মূল্যবৃদ্ধি করতে পারবে এমন একটি অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে জারি করা ওই অধ্যাদেশে আইন পরিবর্তন করে ট্যারিফ নির্ধারণ, পুনর্র্নির্ধারণ বা সমন্বয়ে সরকারের ক্ষমতা শিরোনামে ৩৪(ক) ধারা যুক্ত করা হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নির্বাহী আদেশে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াতে, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গণশুনানি কার্যক্রম স্থগিত করে। এরপর দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে যমুনার সামনে সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও বক্তব্য দেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি ফাউন্ডেশন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত এই ফাউন্ডেশনের প্রধান হিসেবে থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন আহত-নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখার কাজ করবে এই ফাউন্ডেশন।

নিখোঁজ মানুষদের বিষয়ে একটি কমিশন করার সিদ্ধান্ত হওয়ার কথাও জানান উপদেষ্টা। এর সম্ভাব্য নাম ঠিক করা হয়েছে ‘কমিশন অন এনফোর্স ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’। যারা বিভিন্ন সময়ে ‘গুম’ হয়েছে, সে গুমের জন্য কারা দায়ী, সে জিনিসগুলো তদন্ত করে দেখবে এ কমিশন। অপরাধীদের বিচারে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনগত প্রক্রিয়া চালানোর জন্য কী কী করা যেতে পারে, সেজন্য আইন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসবেন বলেও জানান রিজওয়ানা।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নামকরণের বিষয়ে একটি নীতিমালা করারও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, যখন জনগণের টাকা ব্যয় করে কোনো প্রকল্প হয় বা স্থাপনা হয়, সেটির নাম কী নীতি অনুসরণ করে হবে, সে বিষয়ে বলা থাকবে এই নীতিমালায়। যাতে এমন নাম হয়, যেটি কোনোভাবেই ‘ফ্যাসিবাদ’কে উসকে দেবে না এবং তাতে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে। একপর্যায়ে এটিকে আইনি কাঠামোয় আনতে হবে বলেও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নাম নিয়ে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়ে যায়, এটি যাতে না হয়, সেজন্য এই নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।

আইনি প্রক্রিয়াগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েও কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদের সভায়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, কয়েকজন উপদেষ্টা এবং দেশের আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসবেন। কোথায় কোথায় কী নির্দেশনা যাওয়া দরকার, সেটি তারা ঠিক করে জানিয়ে দেবেন।

দাবি-দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে উপদেষ্টা পরিষদের সভায়। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, প্রতিবাদ করতেই পারে। অনেক বছর অনেক কিছু বলতে পারেনি; কিন্তু এই প্রতিবাদের কারণে জনজীবনে যাতে বাড়তি অসুবিধার সৃষ্টি না হয়, সেটি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র ও সরকারের মুখপাত্র কীভাবে আলোচনায় বসতে পারে, সেটিরও একটি উপায় বের করা হবে।

উপকূলীয় মৎস্য আহরণে বিদেশি ট্রলার যাতে ঢুকতে না পারে, সেজন্য কোস্ট গার্ডকে (উপকূল রক্ষাকারী বাহিনী) নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম বাদ দিয়ে ‘বাংলাদেশ জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ করা হয়েছে। এজন্য শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত