কয়েক মাস ধরে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে। এ ছাড়া বাজার সিন্ডিকেট ও আমদানির জন্য শুধু একটি বাজারের ওপর নির্ভরতার কারণে পেঁয়াজের দাম কমছিল না। তবে ভারত ছাড়া চীন ও পাকিস্তানের বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় মসলাজাত এ পণ্যে দাম পাইকারিতে কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা কমেছে। কিন্তু খুচরা বাজারে এর তেমন প্রভাব দেখা যায়নি।
সবজি, মাছ-মাংস আগের দামে বিক্রি হলেও কিছুটা দাম বেড়েছে চালের। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বন্যার অজুহাত দিচ্ছেন।
দেশে পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা হতো। কিন্তু মাঝেমধ্যে ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কিংবা ন্যূনতম দর বেঁধে দেয়। এতে করে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। লাগামহীনভাবে দাম বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় ঘটেছে। বর্তমানে ভারতের পাশাপাশি চীন ও পাকিস্তান থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম কমে পাবনার পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১০৫-১০৭, ফরিদপুরের পেঁয়াজ ৯৫-৯৮, ভারতীয় পেঁয়াজ ৯৭-৯৯, পাকিস্তানি পেঁয়াজ ৯২-৯৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিনে গত বুধবার বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেঁয়াজ আমদানিতে ভারতনির্ভরতা থাকায় এতদিন মসলাজাত এ পণ্যের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে ছিল। তাছাড়া গুটিকয়েক আমদানিকারকের কারণে পেঁয়াজের বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করত।
ব্যবসায়ীরা মনে করেন, ভারতনির্ভরতা কাটানো গেলে পেঁয়াজ ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা সম্ভব হবে।
কারওয়ান বাজারের পাইকার স্বদেশ বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী কামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত এক সপ্তাহে দুবার পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। এর মধ্যে পাবনার পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে প্রতি কেজি ১০৫-১০৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ১০ দিন আগেও পাইকারি বাজারে ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তাছাড়া আমদানিকৃত পেঁয়াজের কেজিতে ৮ টাকা কমে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৮ টাকায়।
অন্যদিকে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কমলেও খুচরা এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। উল্টো বাড়তি দাম দিয়ে কেনার অজুহাতে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, বাড়তি দামে কিনে বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী বিক্রি করলে কেজিপ্রতি ৫ টাকা লোকসানে বিক্রি করতে হবে।
চালের বাজার ঘুরে চড়া ভাব দেখা গেছে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও আগে থেকে চড়ে থাকা চালের বাজারে আবার চড়া ভাব তৈরি হয়েছে। মোটা জাতের প্রতি কেজি ব্রি-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকার মধ্যে, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ১ টাকা বেশি। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ৬৫ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া সরু জাতের নাজিরশাইল ৭০-৮৫ ও মিনিকেট নামে বিক্রি করা চালের দাম ৭২-৮০ টাকা। এ দুটি জাতের চাল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল থেকে পর্যাপ্ত চাল পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের কয়েকটি জেলা বন্যাকবলিত হওয়ায় মিল ও চালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে চালের বাজারে প্রভাব পড়েছে।
সবজি, মাছ ও মাংসের দাম গত সপ্তাহে যা ছিল, এ সপ্তাহেও তাই দেখা গেছে। প্রতি কেজি পটোল ৫০-৬০, বরবটি ৮০-১০০, ঢেঁড়স ৫০-৫৫, পেঁপে ৩৫-৪৫, বেগুন ৮০-১০০, কাঁকরোল ৬০-৭০, করলা ৭০-৮০ ও আলু ৫৫-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া বাজার ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২০০-২৪০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
মহাখালীর সবজি ব্যবসায়ী সালমান আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, মরিচ ও বরবটি ছাড়া অন্যান্য সবজির দাম বাড়েনি। সব ধরনের সবজি ৫০-৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া কোনো কোনো সবজি বাজারভেদে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির মতো মাংস-ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। এক মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২৫-৩০ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০, সোনালি মুরগি ২৪০-২৫০ ও খাঁটি পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৭০-২৮০ টাকা কেজি দরে। একইভাবে ভোক্তাকে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।
মাছের বাজারে গিয়েও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। প্রতি কেজি চাষের কৈ ২৫০-২৭০, ছোট রুই ২৫০-২৬০, বড় আকারের কাতলা, মৃগেল ও রুইসহ অন্য কার্প জাতীয় মাছ ৩০০-৩৬০, চাষের শিং ৪৫০-৬০০, সাগরের পোয়া ৪০০-৬৫০ ও বাইলা মাছ ৬৫০-৭০০, পাঙাশ ২০০-২১০, লইট্টা ও তেলাপিয়া ২১০-২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোট আকারের তেলাপিয়া ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ইলিশের দাম এখনো চড়া। তিনটায় এক কেজি হয়, এমন ইলিশ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকা কেজি দরে। ৯০০ গ্রামের ওজনের ইলিশ ১৫০০-১৬০০ আর এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ১৯৫০-২০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
