কী আছে সাকিবের ভাগ্যে

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৪, ১০:৪৬ এএম

বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিতর্কিত এক নাম সাকিব আল হাসান। মাঠ ও মাঠের বাইরে সংখ্যাটা অগণিত। ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের অনুমতিপত্রে বাবার নাম পাল্টে ফেলা, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, কাঁকড়া শ্রমিকদের মজুরি না দেওয়া, জুয়াড়ি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি, দলের অনুশীলন রেখে বিজ্ঞাপনের কাজে যাওয়াসহ নানা বিতর্ক আছে তার নামের পাশে। গত বছর দুবাইয়ে এক খুনের মামলার আসামি সোনার দোকান উদ্বোধন করতে গিয়েও সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। এবার সেসব কিছুকে ছাপিয়ে নিজেই হয়ে গেলেন হত্যা মামলার আসামি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট আদাবরের রিংরোডে বুকে ও পেটে গুলিবিদ্ধ হন মোহাম্মদ রুবেল নামে এক গার্মেন্টস শ্রমিক। দুদিন পর তার মৃত্যু হয়। রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার হত্যা মামলা করেন যেখানে সাকিবকে ২৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ১৫৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি আরও ৫০০ জন। মামলার এজাহার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মামলায় জড়ানো সাকিবই দেশের প্রথম ক্রিকেটার নন। এর আগে রুবেল হোসেন, আরাফাত সানি, শাহাদাত হোসেন রাজিব, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও নাসির হোসেনের নামও উঠেছিল মামলার খাতায়। তবে সেগুলো ছিল ধর্ষণ ও নিপীড়নবিষয়ক। কিন্তু জাতীয় দলে খেলে যাচ্ছেন এমন কোনো ক্রিকেটারের হত্যা মামলায় জড়ানো নজির এই প্রথম। ঠিক যেভাবে ২২ গজে তিনি ব্যাটে-বলে অনেক প্রথমের কীর্তি গড়েছেন। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপি। এর জেরে গ্রেপ্তার হন রুবেল, যেতে হয় কারাগারে। বিসিবি সেখানে আইনি সহায়তায় তাকে জামিনে মুক্ত করে বিশ্বকাপ খেলাতে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যায়। তারপর শাহাদাত হোসেন রাজিবকে বাড়ির গৃহকর্মীকে নির্যাতনের দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিসিবি তাকে নিষেধাজ্ঞা দেয়। আরাফাত সানিকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এক তরুণীর করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সন্দীপ লামিচানে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পরই নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন তার অধিনায়কত্ব কেড়ে নেয়। করে আজীবন নিষিদ্ধ। আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার পর তার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

তবে বিসিবির চুক্তিবদ্ধ কোনো ক্রিকেটারের নাম এবারই প্রথম হত্যা মামলায় জড়িয়েছে। বিষয়টি বোর্ডের কাছেও বিব্রতকর। তাই বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডারের বিরুদ্ধে বিসিবি এখন কী ব্যবস্থা নেয় সেটাই দেখার অপেক্ষা। কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরুর আগে থেকেই দেশে নেই সাকিব। সরকার পতনের পরও আসেননি। সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে পাকিস্তানে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তবে এভাবে বিদেশে থেকে সবসময় দলের সঙ্গে খেলা যাবে না এমন ইঙ্গিত ফারুক আহমেদ বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই দিয়েছিলেন।

এবার কী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে? জানতে চাইলে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচ চলছে। খেলার মাঝখানে হুট করে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আগামীকাল (আজ) বোর্ডে যাব। সেখানেই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

মামলা মাথায় নিয়ে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে খেলতে নেমে হাসেনি সাকিবের ব্যাট। পার্টটাইম বোলার সাইম আইয়ুবকে অযথা ড্রাইভ করে এক্সট্রা কভারে শান মাসুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। ১৬ বলে তার ১৫ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল দুটি চারে। এর আগে বল হাতেও দ্যুতি ছড়াতে পারেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত