ডিএমপি কমিশনার

পুরোপুরি পুলিশি ব্যবস্থা চালু করতে আরও সময় লাগবে

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৪, ০৬:০৮ এএম

পুলিশের কিছু অপেশাদার ও উচ্চাভিলাষী সদস্য পুরো বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মাইনুল হাসান। তিনি বলেন, পুরোপুরি পুলিশি ব্যবস্থা চালু করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তবে আপনারা পরিচ্ছন্ন পুলিশিং দেখতে পাবেন। যাদের আস্থার সংকট বলছেন, তারা বাহিনীতে থাকবে না।

গতকাল শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ‘কমিশনার’স মিট দ্য প্রেসে’ ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার মাইনুল হাসান বলেছেন, ডিএমপিকে ঢেলে সাজানো হবে। আমরা চাই পেশাদার পুলিশ বাহিনী তৈরি হোক। যেখানে কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায়ের স্থান থাকবে না। বাহিনীতে যারা অপেশাদার আচরণ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। ঊর্ধ্বতন পুলিশের অনেক কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন। তাদের বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য-উপাত্ত নেই।

ইতিমধ্যে বেশ কিছু ভিআইপিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে আনা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ কী জানতে পেরেছে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের ইস্যুতে হওয়া মামলায় তারা রিমান্ডে রয়েছেন। তাদের কেউ অর্থ, পরামর্শ ও বক্তৃতা কিংবা বিবৃতি দিয়ে উৎসাহিত করেছেন এসব বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে কিছু অপেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে হত্যাকা- ঘটেছে। সে সব পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কিছু পুলিশ সদস্যের নামেও মামলা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা একটি চলমান প্রক্রিয়া। তুলনামূলক সময় লাগতে পারে। বিভাগীয় ব্যবস্থার বিষয়টি চলমান রয়েছে।

মাইনুল হাসান বলেন, আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ যারা অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, সেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও কাজ চলছে। আন্দোলনে যেমন লাইসেন্সকৃত অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিল, তেমন অবৈধ অস্ত্রও ব্যবহার হয়েছিল। বৈষম্যবিরোধী এই আন্দোলনে ঢাকা মহানগরের ৫০টি থানার মধ্যে ২২টি থানা পুড়েছে, অনেক পুলিশ নিহত-আহত হয়েছেন, যার জন্য এখনো অনেকে আতঙ্কে রয়েছেন।

বিশেষ কয়েকটি জেলার পুলিশ সদস্যরা ডিএমপিতে গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে ছিলেন। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমি এ বিষয়ে একমত নই। বিশেষ কোনো জেলার সদস্যদের দিয়ে ডিএমপি পরিচালিত হবে না, ডিএমপি পরিচালিত হবে পেশাদার কর্মকর্তাদের দিয়ে। আমরা চাই একটি সুন্দর সুশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনী তৈরি করতে। যেখানে সব পুলিশ সদস্যের কাজ হবে পেশাদারি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত