অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে চীন

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৪, ০৮:২৮ এএম

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে চীন। একই সঙ্গে মিয়ানমার থেকে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে রাজনৈতিক, আর্থিক ও মানবিক সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখবে দেশটি। গতকাল রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এসব আশাবাদ ব্যক্ত করেন ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক তথ্য বিবরণীতেও এসব কথা জানানো হয়েছে।

বৈঠকের সময় বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সহানুভূতি প্রকাশ করে বন্যার্তদের জন্য গঠিত প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে ২০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার কথা জানান চীনের রাষ্ট্রদূত।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস আরও কয়েকটি সোলার প্যানেল কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তর করার জন্য চীনকে আহ্বান জানান। প্রধান উপদেষ্টা বেইজিং ও ঢাকার মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন এবং চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে তাদের কারখানা স্থানান্তর করতে বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, চীন সৌর প্যানেলের অন্যতম বৃহৎ নির্মাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, কিন্তু দেশটি রপ্তানি বাজারে ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছে। গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাস এ তথ্য জানায়।

বৈঠকে ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি দেখে তিনি মর্মাহত। হতাহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং তাদের পরিবার, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেন।

ইউনূস বলেন, চীনা নির্মাতারা বাংলাদেশে সৌর প্যানেল কারখানাগুলোকে স্থানান্তরিত করতে পারে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখী করতে এবং একটি সবুজ অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করবে।

তিনি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়াসে চীনে বাংলাদেশি পণ্য আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি প্রযুক্তিগত স্থানান্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা এবং কৃষিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা বলেন।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশিরা দুর্যোগ কাটিয়ে উঠবে এবং তাদের বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করবে।

ইয়াও ওয়েন বলেন, দুই দেশ ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং চীনা জনগণ বাংলাদেশি জনগণের দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নেয়। এভাবে চীন বাংলাদেশকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করার চেষ্টা করছে। দুই দেশের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, চীনের সংশ্লিষ্ট এজেন্সি প্রতিদিন যথাক্রমে সকাল ও বিকেলে দুইবার বাংলাদেশকে উজানের নদীর জলবিদ্যুৎ সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করছে।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন ও বাংলাদেশ সম্প্রতি তাদের সম্পর্ক একটি ‘বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করেছে এবং উভয় দেশ আগামী বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বছর উদযাপন করবে।

তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, ‘আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আরও সুন্দর ও উজ্জ্বল হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা চীনে তার স্মৃতির কথাও স্মরণ করেন, যেখানে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনূস সেন্টার স্থাপন করেছে এবং অনেক তরুণ থ্রি জিরো ক্লাব গঠন করেছে, যার সদস্যরা জলবায়ু পরিবর্তনে শূন্য অবদান, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ এবং শূন্য বেকারত্বের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

চীনা রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ইউনূসকে তার সুবিধাজনক সময়ে চীন সফরের জন্য চীনা নেতৃত্বের আমন্ত্রণ জানান। তিনি দুই দেশের মধ্যে যুব সহযোগিতা এবং জনগণের সঙ্গে মানুষের সংযোগের ওপর জোর দেন।

ঢাকায় চীনা দূতাবাস থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়, চীনের রেড ক্রস সোসাইটি জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে নগদ ১ লাখ ডলার অনুদান দেবে। চীনা দূতাবাস প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ২০ হাজার ডলার অনুদান এবং ফেনী ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের জন্য ৬০ লাখ টাকার খাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণ সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন এবং মিনিস্টার কাউন্সেলর লিউ ইউয়িন এবং চীনা দূতাবাসের অন্য কূটনীতিকরা ইতিমধ্যেই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রওনা হয়েছেন। প্রয়োজনে চীন বাংলাদেশকে আরও সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশে চীনা উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৪০ লাখ নগদ এবং প্রায় ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের ত্রাণসহায়তা দিয়েছে চীন। এই সহায়তা অব্যাহত রেখেছে দেশটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত