হঠাৎ বন্যায় টানা ৫ দিন ধরে পানিবন্ধি চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ২ লাখেরও বেশি মানুষ। টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে গত বুধবার থেকে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ১৬৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। শেষ কবে এমন বন্যা দেখেছেন তা বলতে পারছেন না স্থানীয়রা।
ফেনী-কুমিল্লার কয়েকটি অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পানি ওঠায় দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। ফলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। পথে আটকে থাকায় মালবাহী অনেক যানবাহনে থাকা নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা ভোগ্যপণ্য নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে পানিবন্দি উপজেলার দোকানগুলোতে শুকনো খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্রের ওপর চাপ পড়েছে। বাজারে দেখা দিয়েছে শুকনো খাবারের সংকট। উপজেলার কোনও বাজারে দুদিন আগে থেকেই চিড়া, মুড়ি ও গুড় পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে সবজি থাকলেও বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। এছাড়া আলু, পেঁয়াজ কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। সব টিউবওয়েল পানিতে ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।
উপজেলার ৭৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ২০ হাজার মানুষ। অনেকে আবার আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়-পরিজনের বাড়িতে।
মীরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত চক্রবর্তী সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে জানান, শনিবার রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিছু কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, যুব রেডক্রিসেন্ট অ্যালামনাই, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং শিক্ষার্থীরা পৃথক পৃথকভাবে বানভাসী মানুষদের উদ্ধার এবং তাদের মাঝে বিশুদ্ধ পানীয়, ওষুধ ও খাবার বিতরণ করছেন।
