সাকিবকে পরের টেস্টে দলে রাখা বা না রাখা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন বিসিবি পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। সোমবার সাংবাদিকদের বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা ও কোচ ফাহিম জানিয়েছেন, দল নির্বাচনে পাকিস্তান সফরে থাকা প্রধান নির্বাচক, দলের কোচ এবং অধিনায়ক মিলেই সিদ্ধান্ত নেবেন। সাবেক সাংসদ সাকিবকে আসামি করে আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় যার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি ওঠে এবং বিসিবিকে লিগ্যাল নোটিসও পাঠানো হয় সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর পক্ষ থেকে। মামলাটিকে ‘হয়রানিমূলক’ আখ্যায়িত করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্রিকেটাররাও।
আইনের নিজস্ব ধারা আছে। সাকিবের মামলার ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. মাইনুল হাসান বলেছেন, ‘যে কোনো মামলায় অপরাধীর সম্পৃক্ততা থাকে। আন্দোলনের বিরুদ্ধে যারা অর্থ, পরামর্শ ও মিডিয়াতে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন তাদের বিষয়ে তদন্ত হবে।’ বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেছেন, ‘মামলাটির এফআইআর হয়েছে, পরে তদন্ত হবে। তারপরে একটা দিকে যাবে মামলাটি।’
আইনের নিজস্ব গতিতে মামলার তদন্ত হবে, পুলিশ প্রতিবেদন দেবে এবং বিচার বিভাগ তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে রায় দেবে। সাকিব একজন নাগরিক হিসেবে আইনি লড়াই করতে পারবেন, জামিনের আবেদনও করতে পারবেন। এসব চলবে নিজস্ব নিয়মেই। তবে এই আইনি প্রক্রিয়াগুলো মাথায় নিয়েও সাকিবের রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের শেষ দিনে দারুণ বোলিং অনেককে চমকে দিলেও অবাক হননি শৈশবের কোচ ফাহিম, ‘টপ অ্যাথলেট যারা, যেকোনো স্পোর্টস বা যেকোনো দেশেরই হোক তারা যখন পারফর্ম করতে মাঠে নামে তারা নেতিবাচক ভাবনাগুলো সরিয়ে মাঠে নামে। তারা কেবল খেলার কথাই ভাবে। ওভাবেই কিন্তু তারা নিজেদের তৈরি করে। যেন অন্য কোনো চিন্তা আদৌ না আসতে পারে। সাকিবের ক্ষেত্রেও তাই। ওকে যখন বল দেওয়া হয় ওর অন্য কোনো চিন্তা থাকে না। ও শুধু ব্যাটসম্যানকে নিয়ে চিন্তা করে। কোথায় বল করবে, কী হতে পারে। বাইরের কোনো চিন্তা আসে না। অন্য সময় আসতে পারে। কিন্তু বল যখন হাতে পায় তখন অন্য কিছু মাথায় কাজ করে। এটাই ওকে অন্যদের থেকে আলাদা করছে। আমাদের অনেক খেলোয়াড়কে দেখে বিভিন্ন ঘটনা সমালোচনা ওদের ন্যাচারাল খেলা খেলতে দেয় না। কিন্তু সাকিবের ক্ষেত্রে সেটা ঠিক না।’
মাঠের পারফরম্যান্সে নিঃসন্দেহে সাকিব রাওয়ালপিন্ডিতে পরের টেস্টে জায়গা হারাবার মতো নন। কিন্তু মাঠের বাইরের বিতর্কে কি তাকে বাদ দেবে বিসিবি? এমন প্রসঙ্গে ফাহিম জানিয়েছেন, ‘একটা দল যখন বাইরে খেলতে যায় তখন তাদের পুরো স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দলে থাকাদের যদি সেই স্বাধীনতা দেওয়া হয় তাহলে পেছনে তাকাতে হয় না। যদি পেছন থেকে একটি রশি টেনে রাখা হয় তাহলে কিন্তু তারা নিজেরা নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। সিদ্ধান্ত সব সময় ঠিক হবে তা নয় কিন্তু। কিন্তু স্বাধীনতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জরুরি। যেকোনো স্পোর্টসেই। ক্রিকেটে তো অবশ্যই। ওখানে কোচ আছে, অধিনায়ক আছে, নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান আছে। তারা যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ভালো। সেটা টিম সিলেকশন হোক বা যেকোনো ব্যাপারেই হোক। যার যেই দায়িত্ব সেগুলো তারা পালন করবে। আমাদের কাজ হচ্ছে তাদের সাপোর্ট করা যেকোনো কাজে। এর চেয়ে বেশি কিছু নয় কিন্তু।’
