অফিসের ফোন অবজ্ঞা করার অধিকার!

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৪, ০২:৪৩ এএম

কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় নতুন এক আইন পাস হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। এখন থেকে দেশটির কর্মীরা অফিস শেষে ই-মেইল, মেসেজ বা ফোনকল অবজ্ঞা করার আইনি অধিকার পাবেন। ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ বা ‘বিচ্ছিন্ন থাকার অধিকার’ নামের এ আইন গতকাল সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ আইনের ফলে নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পর কোনো কর্মী যদি অফিস থেকে আসা ই-মেইল না পড়েন বা ফোনকল গ্রহণ না করেন, তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে কোনো ধরনের শাস্তি দিতে পারবে না প্রতিষ্ঠানগুলো।

এই আইনের সমর্থকরা বলছেন, এতে কর্মীরা কাজ থেকে ফিরে বাসায় যাওয়ার পর স্বস্তিতে তাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে এ ধরনের অনাহূত ই-মেইল, এসএমএস বা ফোনকল অবজ্ঞা করতে পারবেন। করোনাভাইরাস মহামারীর সময় বড় আকারে  ‘হোম অফিস’ বা বাসা থেকে কাজের প্রচলন শুরুর সঙ্গে এ ধরনের ফোন, মেসেজ বা ই-মেইলের সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সুইনবার্ন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-অধ্যাপক জন হপকিন্স বলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি আসার আগে কাজ নিয়ে কোনো পিছুটান থাকত না। শিফট শেষে যে যার বাসায় চলে যেত এবং পরের দিন অফিসে ফেরার আগে পর্যন্ত অফিসের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের যোগাযোগ হতো না। আর এখন সারা বিশে^ প্রচলিত ধারণা হলো কাজের ঘণ্টার পরও ই-মেইল, এসএমএস ও ফোনকল রিসিভ করতে হবে এবং প্রয়োজনে কাজও করতে হবে। এমনকি ছুটির দিনেও।’

এক জরিপে জানা গেছে, ২০২৩ সালে গড়ে ২৮১ ঘণ্টা অবৈতনিক ওভারটাইম খেটেছেন অস্ট্রেলিয়ার কর্মীরা। এই অবৈতনিক শ্রমের মূল্যমান প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি আরও প্রায় ২৪টি দেশে একই ধরনের আইন চালু রয়েছে। এসব দেশের বেশিরভাগই ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকায়।

প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্সে ২০১৭ সালে এই আইন চালু হয়। রেন্টোকিল নামের এক প্রতিষ্ঠানকে ফরাসি সরকার ৬৬ হাজার ৭০০ ডলার জরিমানা করে, কারণ তারা একজন কর্মীকে ২৪ ঘণ্টা ফোন চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।

তবে জরুরি সেবা ও অনিয়মিত ঘণ্টার চাকরির ক্ষেত্রে আইনটি নিয়োগকর্তাদের কিছুটা স্বাধীনতা দিয়েছে। গ্রহণযোগ্য যুক্তি থাকলেই কেবল এ ধরনের চাকরিতে নিয়োজিত কর্মীরা অফিস থেকে আসা ফোন, টেক্সট বা ই-মেইল অবজ্ঞা করতে পারবেন। এ বিষয়ে ফয়সালা করার জন্য একটি সরকারি সংস্থা কাজ করবে। ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন (এফডব্লিউসি) একজন কর্মীর দায়িত্ব, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং কীভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল তা বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারণ করবে, তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কি না। এ ক্ষেত্রে কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়কেই জরিমানা করার এখতিয়ার রয়েছে সংস্থাটির।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত