জাতিসংঘের ব্রিফিং

ন্যায়বিচার নিশ্চিতে যা করণীয় অন্তর্বর্তী সরকার করবে

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৪, ০২:৪৩ এএম

জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার প্রসঙ্গ তুলে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের কার্যালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করেছেন এক সাংবাদিক। জবাবে মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, এ ব্যাপারে তাদের কোনো সন্দেহ নেই যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য যা যা করা যায়, তা করবে।

গত সোমবার ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি পড়ে শোনান জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র। এতে বলা হয়, ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা উজানের ঢলে বাংলাদেশ আকস্মিক বন্যার কবলে পড়েছে। জাতিসংঘের দল দুর্গত এলাকায় আছে। তারা দুর্গত মানুষের মধ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার কিট ও খাবার বিতরণ করছে।

জাতিসংঘ আগেই জানিয়েছে, বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ও মৌসুমি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রথমবারের মতো মানবিক সহায়তা পরিকল্পনা গত মাসে চালু করেছে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো। এর লক্ষ্য, ১২ লাখ মানুষকে সহায়তা করা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ মানুষের কাছে তারা সহায়তা পৌঁছাতে পেরেছে।

ব্রিফিংয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেন আরেক সাংবাদিক। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত দেড় সপ্তাহে বাংলাদেশে হাজারো মামলা, হত্যা মামলা, দুর্নীতির মামলা হয়েছে...।

তখন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘দুঃখিত। আমি প্রশ্নটি বুঝতে পারিনি।’

প্রশ্নকারী আবার বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর প্রায় ৫০ লাখ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে হাজারের বেশি হত্যা ও দুর্নীতির মামলা হয়েছে। এসব মামলার আসামিদের মধ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান আছেন; যিনি দেশের বাইরে আছেন। এ ছাড়া আসামিদের মধ্যে আছেন সিনিয়র সাংবাদিক।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘ঠিক আছে। কিন্তু প্রশ্নটা কী?’

তখন প্রশ্নকারী সাংবাদিক দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার লোককে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এভাবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে ভিন্নমতের ব্যক্তিদের দমন করার কৌশলের ব্যবহার নিয়ে জাতিসংঘের কোনো উদ্বেগ আছে কি না জানতে চান তিনি।

জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ, যারা রাজনৈতিক ও মানবিক দিক দিয়ে দেশটির জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তারা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে যা যা করা যায়, তা করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত