নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের শড়াতলা গ্রামে পরকীয়ার জের ধরে স্ত্রী আছিয়া খানমকে (২২) জবাই করে ও পুড়িয়ে হত্যা মামলায় স্বামী রনি শেখ (২৬) ও তার বন্ধু মেহেদী হাসান হৃদয়কে (২৫) মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও দুই জনকে ১লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আলমাচ হোসেন মৃধা এ দন্ডাদেশ দেন। রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এসময় আসামিদের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের শড়াতলা গ্রামের মৃত ইকলাজ শিকদারের কন্যা আছিয়া খানমের সাথে একই গ্রামের লিটু শেখের ছেলে রনি শেখের সাথে প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে বায়েজিদ নামে ৩ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। পুত্র সন্তানের বয়স ৬ মাস হলে পারিবারিক কলহের কারণে রনি শেখ তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনকে তালাক দেয়। ৩ মাস পর স্থানীয়ভাবে সালিশ মিমাংসার পর রনি শেখ পুনরায় আছিয়া খাতুনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। স্বামী রনি শেখ জীবিকার তাগিয়ে একটি মোবাইল কোম্পানীর টাওয়ারে চাকুরী নেন। সেখান থেকে মোবাইলের মাধ্যমে একই থানার গহুবগ্রামের এক মেয়ের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। রনি শেখ পরকীয়া প্রেমিকাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকা চলে যায়। সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করে পুনরায় দুজনে বাড়িতে ফিরে আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রনি ও তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনের মধ্যে ঝসড়াঝাটিসহ পারিবারিক কলহ বিরাজ করে।
স্বামী রনি শেখ তার ঘনিষ্ট বন্ধু শড়াতলা গ্রামের জামির ফকিরের ছেলে মো. মেহেদী হাসান হৃদয় ওরফে আব্বাস ফকির সাথে পরামর্শ করে আছিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লোহাগড়া বাজার হতে ২ লিটার পেট্রোল কিনে আনে রনি।
ঘটনার দিন ২০২২ সালের ৪ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রনি ও তার বন্ধ দুজনে ঘরে প্রবেশ করে স্টীলের মগ দিয়ে ভিকটিম আছিয়া খাতুনের মাথায় আঘাত করে। এসময় আছিয়া অজ্ঞান হয়ে খাট থেকে মাটিতে পড়ে যায়। ওই সময় রনি ও মেহেদী মিলে প্রথমে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আছিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এরপর রান্না ঘর হতে বটি এনে আছিয়াাকে জবাই করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করতে আছিয়ার লাশে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। আছিয়ার ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে পানি দিয়ে আগুন নেভায়। এসময় দগ্ধ অবস্থায় আছিয়া খাতুনের গলা কাটা লাশ দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। পরে থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।
এ ঘটনায় আছিয়ার মা রেবেকা বেগম বাদী হয়ে ৭জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইল সদর থানার সাবেক ওসি ওবাইদুর রহমান তদন্ত করে রনি ও তার বন্ধু মেহেদীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এই মামলায় ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনা করেন পিপি সৈয়দ এমদাদুল ইসলাম এমদাদ ও আসামিদের পক্ষে পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট উত্তম কুমার ঘোষ ও অ্যাডভোকেট নেওয়াজ মাহমুদ তুহিন।
এদিকে মামলায় ফাঁসির আদেশ হওয়ায় খুশি বাদীপক্ষের লোকজন। আসামিদের আত্মীয়রা জানান, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিল
ছাত্রসমাজ প্রমাণ করেছে, তারা কারো কাছে বিক্রি হয়নি: ড. কামাল
বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আইন বাতিল
ড. ইউনূসের আমন্ত্রণে যমুনায় বিএনপি প্রতিনিধি দল
একদিনের জন্য হলেও শেখ হাসিনাকে আয়না ঘরে রাখা হোক
খালেদা জিয়াকে হত্যাচেষ্টা-প্রসঙ্গে যা বললেন জয়