লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৮ নং করপাড়া ইউনিয়নের করপাড়া গ্রাম। এক সপ্তাহ ধরে এই গ্রাম পানিবন্দি। লক্ষ্মীপুর সদর থেকে অনেকটা ভেতরে হওয়ায় এখানে ত্রাণ পৌঁছায়নি এতদিন। আজ শুক্রবার বাড়ির দরজায় ত্রাণ ভর্তি ট্রাক দেখে বিস্মিত বন্যার্তরা। হাতে চাল-ডাল পেয়ে প্রাণভরে দোয়াও করলেন তারা।
৭০ বছর বয়সী দিনমজুর সোলায়মান তার পরিবার নিয়ে বেশ দুর্ভোগেই ছিলেন। তার ছেলেসহ সাত জনের পরিবারে এতদিন রিকশাচালন বা অন্যের জমিতে কাজ করে খাওয়ার সুযোগ ছিল। গত সাতদিন যাবত পানিবন্দি থাকায় ঠিকঠাক কাজ করতে পারছিলেন না। এমন অবস্থায় ত্রাণ পেয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের ভালোর জন্য দোয়া করেছেন তিনি।
বন্যার্তদের বিস্ময়টা অবশ্যই ত্রাণ পাওয়ার জন্য। তবে গ্রামে মাটির রাস্তাতে বিশাল ট্রাক দেখেও বিস্মিত তারা। ওই রাস্তায় ৫ টনের এক ট্রাক ঢুকলে মানুষ হাঁটার আর জায়গা থাকে না। এই পর্যন্ত ত্রাণের গাড়ি এসে তাদের দুর্ভোগ দূর করবে এমনটা এতদিন ভাবেননি তারা।
এমনটা সম্ভব হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ৮ নং করপাড়া ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রিয়াদ হোসাইনের চেষ্টায়। নিজ গ্রামের লোকদের দুর্ভোগ কাটাতে বৃহস্পতিবার রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের নির্বাহী অফিসার মো. শরীফুল্লাহ আশ শামস ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার দিলীপ দের সঙ্গে যোগাযোগ করে ত্রাণের ব্যবস্থা করেন রিয়াদ।
শুক্রবার রামগঞ্জ ও রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের মিলিত প্রচেষ্টায় ইউনিয়নের ৮০ থেকে ১০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দেন স্বেচ্ছাসেবকরা। ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম করপাড়া, আবদুল হক চৌকিদার বাড়ি, বদ্দারবাড়ি, কামার বাড়ি, উত্তর হাজী বাড়ি, টুক্কার বাড়ি, সর্দার বাড়ি, মোল্লা বাড়িতে ত্রাণ দেওয়া হয়।
ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য খুঁজে খুঁজে এমন পরিবারদেরকেই ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি করে পেঁয়াজ, আটা, ১ প্যাকেট করে সুজি ও লবণ, ১ লিটার তেল, ৫০০ গ্রাম করে চিনি ও মসুর ডাল, ৩ প্যাকেট বিস্কুট ও ১০০ গ্রাম করে হলুদ ও মরিচ দেওয়া হয়।
