ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেব নগরের মৎস্য খামারি সোহাগ মিয়া সাতটি পুকুরে ঋণ করে মাছ চাষ করেছিলেন। কিন্তু বন্যায় সবগুলো পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন তা নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
মৎস্যচাষি সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আমার সাতটি পুুকুরের সব মাছ পানিতে ভেসে গেছে। একটি মাছও ধরে রাখতে পারিনি। আমি শেষ হয়ে গেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর মাত্র ১০-১৫ দিন পর মাছগুলো বিক্রি করার কথা ছিল। কিন্তু গত ২০ আগস্ট ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সবগুলো পুকুর তলিয়ে যায়। আমার ১৫-২০ লাখ টাকার মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সব কিছু হারিয়ে এখন আমি দিশেহারা। আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছি। এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করব তা বুঝতে পারছি না। তাই এ ব্যাপারে সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’
শুধু সোহাগ মিয়ার নয়, দক্ষিণ ইউনিয়নের সব চাষির মাছই ভেসে গেছে। রহিমপুর গ্রামের ইবরাহিম মিয়া বলেন, ‘আমাদের তিনটি পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। কিছুই আটকাতে পারিনি। কীভাবে এ ক্ষতি পূরণ করব তা বুঝতে পারছি না।’
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রওনক জাহান বলেন, ‘বন্যায় আখাউড়ায় ১২ কোটি টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে তথ্য নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খামারিদের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের বিনামূল্যে মাছের পোনা ও মাছের খাদ্য দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার জন্যও প্রস্তাব পাঠিয়েছি। যদি তা মঞ্জুর হয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দেওয়া হবে।’
