নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত মেঘনা নদীতে শুল্ক আদায়ের নামে অবাধে চলছে নৌ-চাঁদাবাজি। এর বিরুদ্ধে নৌযান মালিকরা বিআইডব্লিউটিএ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো লাভ হচ্ছে না।
নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা জানান, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, কিশোরগঞ্জসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে পাথর, বালু, কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজ মেঘনা নদীর সোনারগাঁ উপজেলার নুনেরটেক, বৈদ্যেরবাজার ও মেঘনা সেতু এলাকা হয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুরসহ আশপাশের জেলায় যাতায়াত করে। এসব নৌযান ও স্থানীয়ভাবে চলা বিভিন্ন বালুবাহী ট্রলার, যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে ছোট ছোট নৌকায় করে প্রতিদিন শুল্ক আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করছে সন্ত্রাসীরা।
তাছাড়া পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন নৌঘাট ইজারা নিয়ে নৌপথে শুল্ক আদায়ের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ দিয়েছেন নৌযান মালিকরা।
চাঁদাবাজির ঘটনায় গত ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন এমবি হোসেন অ্যান্ড মাকসুদ খাঁন জাহাজের মাস্টার মো. বাদল।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে হোলসিম ঘাটে মালপত্র লোড করার পর শুল্ক হিসেবে চার হাজার টাকা নিয়ে তাকে মাত্র ৪০০ টাকার রশিদ দেওয়া হয়। পরে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে রশিদের মধ্যে চার হাজার টাকা লিখতে বাধ্য হন।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, মেঘনা নদীর বিভিন্ন ঘটে মালপত্র লোড আন-লোডের জন্য ইজারাদারদেরকে নির্দিষ্ট শুল্ক দিতে হয়। মালামাল ও নৌযানের ধরন অনুযায়ী এ শুল্কের পরিমাণ কম-বেশি হয়ে থাকে।
তবে এ পথে চলাচলকারী নৌযানের চালক ও জাহাজের মাস্টাররা জানান, নির্দিষ্ট শুল্কের চেয়ে ইজারাদারদের সন্ত্রাসীবাহিনী ৫-১০ গুণ বেশি শুল্ক আদায় করে। শুল্কের বাইরে বাড়তি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিকভাবে তাদের নির্যাতন করা হয়।
এ ব্যাপারে ইজারাদার জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি মেঘনা নদীর যে নৌঘাট ইজারা নিয়েছি, সেখান থেকে সরকার নির্ধারিত শুল্ক আদায় করছি। এখানে কোনো বাড়তি টাকা নেওয়া হয় না। আমার বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ-তে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, সেটা ঠিক নয়।’
বিআইডব্লিউটিএ-এর নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক শরিফ হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের ঘটনায় একটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইজারাদারকে শোকজ করা হয়েছে।’
