ভারতের উজান থেকে আসা পানির স্রোতে গোমতী নদীর তীরবর্তী কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গ্রামগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে অন্তত ৪০টি পরিবারের বসতভিটা গোমতী নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙরনের ঝুঁকিতে আছে আরও অর্ধশত পরিবার। ভাঙন ঠেকানোর জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের গোমতী নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। তীরের বাসিন্দারা বাঁশ, গাছের ডাল ফেলে কিছুটা রক্ষা পেত। তবে এবার গত কয়েকদিনের বন্যার পানির স্রোতে গ্রামের অন্তত ৪০টি ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভয়ে অনেকেই ঘরের আসবাবপত্র সরিয়ে নিয়েছেন। কেউ আবার আস্ত টিনের ঘরই সরিয়ে নিচ্ছেন অন্যত্র।
শনিবার (৩১ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ নারান্দিয়া গ্রামের পশ্চিম পাড়া বিল্লাল মিয়ার পাকা ঘরটি কোনরকমে খুলে রক্ষা করলেও জমিজমা সব নদীর পেটে চলে গেছে। একই গ্রামের আব্দুস সালাম, আবুল হাসেম, বাদশা মিয়া, সাগর, মান্নান ও মনোয়ারার পরিবার নদীগর্ভে সব হারিয়েছেন।
দিনমজুর আবুল হাসেম বলেন, ‘আমার ঘরবাড়ি সব নদী নিয়ে গেছে। এখন মসজিদে কোন রকমে থাকি। ছেলে-মেয়েরা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। বাপ-দাদা ভিটে মাটির কোনো চিহ্নই এখন নেই। সবই গিলে খাইছে গোমতী।’
একই গ্রামের মিজান মিয়ার স্ত্রী নাসিমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের তিনটি ঘর কোনরকমে খুলে অন্য জায়গায় নিয়ে রাখছি। কিন্তু বাড়িটি রক্ষা করতে পারিনি।’
ক্ষতিগ্রস্ত নারান্দিয়া গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দারা জানান, দিনদিন বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে অনেক ঘর বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। এখন মানবেতর অবস্থায় আছেন তারা। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারগুলো।
নারান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান খোকা বলেন, ‘নারান্দিয়া গ্রামের গোমতী নদীর দুই পাড়ের প্রায় ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এখনো প্রতিদিনই কোন না কোন পরিবার নিঃস্ব হচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে উপজেলায় জমা দিয়েছি।’
তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া মমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করেছি।’
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভাঙনরোধে এবং নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য প্রকল্পের পূর্বশর্ত হিসেবে সমীক্ষা প্রকল্পের একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশন থেকে পাশ হলে সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তীতে উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে নদী ভাঙনরোধে কাজ সম্পাদন করা হবে।’
