কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নামিবিয়া। দেশজুড়ে বৃষ্টি অভাব, তাই ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মধ্যে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে দেশটির জনগণ।
এমন পরিস্থিতিতে হাতি, জেব্রা ও জলহস্তীসহ ৭০০ টিরও বেশি বন্যপ্রাণী হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত ক্ষুধার্তদের মাংস সরবরাহের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করে জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চেভেলে।
নামিবিয়ার পরিবেশ মন্তনালয় জানিয়েছে, দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেক, প্রায় ১৪ লাখ মানুষ, খাদ্য ও পানির তীব্র ঘাটতির কারণে হুমকির সম্মুখীন।
পানি ও খাদ্যের ঘাটতি মানুষ ও পশুপাখির মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে। প্রাণীরা ক্রমবর্ধমানভাবে খাবার ও পানির জন্য মানুষের বসতিতে আগ্রাসন চালাচ্ছে এবং জনজীবন বিপন্ন করে তুলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নামিবিয়ার কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এই কাজ শুরু করেছে। ১৫০টিরও বেশি প্রাণী ইতিমধ্যেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং প্রায় ৫৭টন মাংস ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার কাছাকাছি গ্রামগুলোতে বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের একজন মুখপাত্র সংবাদ সম্মেলনে নামিবিয়ার পরিস্থিতিকে 'মানবিক সংকট' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
খরার ফলে নামিবিয়ার প্রায় ৮৪ শতাংশ খাদ্য মজুদ শেষ হয়ে গেছে। জাতিসংঘ বলেছিল, গত জুলাই থেকে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে ২৫ লাখ জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক উচ্চমাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা চলছে। এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ফলে কম বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে যখন সাধারণত বর্ষা হয়, তখন এই অঞ্চলে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের ২০ শতাংশেরও কম বৃষ্টি হয়। নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, মালাউই ও জাম্বিয়াও খরার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
