ডা. শফিকুর রহমান

ক্ষমতার মালাই খাওয়ার উদ্দেশ্য জামায়াতের নেই

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:০৩ পিএম

জনতার এই আন্দোলনকে কেউ যদি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে দেশের ১৮ কোটি মানুষ তাদের রুখে দিবে। আর জনগণের সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অগ্রভাগে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ক্ষমতার মালাই খাওয়ার ইচ্ছা জামায়াতে ইসলামীর নেই। সমাজের একটু গুনগত পরিবর্তন আনাই আমাদের উদ্দেশ্য।

সোমবার সকালে দিনাজপুর ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর উত্তর সাংগঠনিক জেলা আয়োজিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত রুদ্রসেন, অন্যান্য শহীদ ও আহতদের জন্য সমাবেশ ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই বিপ্লব, এই পরিবর্তন, এই আন্দোলনের সফলতা একে অবশ্যই পাহারাদারি করতে হবে। এর কোন ধরনের অপমান এই জাতি সহ্য করবে না। এই আন্দোলন বিশেষ কোন গোষ্ঠী, দলের বা সম্প্রদায়ের নয়। এখানে আপামর জনগণ রাস্তায় নেমে এসে আন্দোলনকে সফল করেছে। এখানে কোন নির্দিষ্ট ধর্মের লোকেরা শুধু লড়াই করে নাই, জাতি-দল-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আপামর জনতার এই আন্দোলনকে কেউ যদি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ তাদের রুখে দিবে। আমরা সেই ১৮ কোটি মানুষের সাথে আমরা থাকব। জনগণের সকল আন্দোলনে জামায়াত সাথে থাকবে আমরা কথা দিচ্ছি। 

দিনাজপুর উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এসময় জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আফতাব উদ্দিন মোল্লা, জেলা উত্তর জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য এ্যাডঃ মাহবুবুর রহমান ভুট্টসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। 

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার মালাই খাওয়ার ইচ্ছা জামায়াতে ইসলামীর নেই। সমাজের একটু গুনগত পরিবর্তন আনা আমাদের উদ্দেশ্য। এমন একটি দেশ ও জগত চাই যেই দেশে জাতি-দল-ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। এদেশের নাগরিক হিসেবে দেশে এবং প্রবাসে যেখানে যাক গর্বের সাথে বলবে। আমার বাড়ীতে যদি পাহারা না লাগে, আমার মসজিদে যদি পাহারা না লাগে তাহলে হিন্দু বন্ধুদের মন্দিরে কেন পাহারার প্রয়োজন হবে। আমরা এধরনের কোন বৈষম্য চাই না। আমরা চাই আমাদের সন্তানেরা যে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে করে গিয়েছে এর মাধ্যমে সকল প্রকার বৈষম্যের কবর রচনা হোক। বাংলাদেশ একটা বৈষম্য বিহীন দেশে পরিণত হোক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত