অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া দায়িত্ব নিয়েছেন এক মাস হতে চলল। এর মধ্যেই ক্রীড়াঙ্গন সংস্কারে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ এই উপদেষ্টা। এবার ক্রীড়া সাংবাদিকদের কাছ থেকে সমগ্র ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কে ধারণা নিলেন তিনি। ক্রীড়াঙ্গনে সার্বিক উন্নয়নে মতবিনিময় শীর্ষক সভায় উপস্থিত হয়ে জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিকরা যার যার মতো চেষ্টা করেছেন ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কে নিজস্ব ভাবনা তুলে ধরার। যার পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে কর্মপন্থা নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আসিফ।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা ছিল বেলা ১১টায়। তার আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের ক্রীড়া সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জরুরি সভা থাকায় অনুষ্ঠান শুরু হয় এক ঘণ্টা পর। বিষয়বস্তু ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক উন্নয়ন হলেও সংবাদকর্মীদের বেশিরভাগই বিগত দলীয় সরকারের আমলে ক্রীড়াক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অসংগতি তুলে ধরেন।
৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে ক্রীড়াঙ্গন স্থবির হয়ে পড়া নিয়েও অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ক্রীড়াঙ্গন সংস্কারের পাশাপাশি মাঠে খেলা মাঠে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করা হয় ক্রীড়া উপদেষ্টাকে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অনিয়ম, দুর্নীতির, শীর্ষ কর্তাদের পদ আঁকড়ে থাকা নিয়েও হয়েছে অনেক আলোচনা। সারা দেশে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মালিকানাধীন ক্রীড়া স্থাপনাগুলোর বেহলা দশা, খেলা ও খেলোয়াড়বান্ধব পরিবেশ না থাকা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয় আসিফকে। ক্রীড়া স্থাপনায় বৈধ-অবৈধ দোকান নির্মাণ, সেগুলো থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার রেট মান্ধাতা আমলে থেকে যাওয়ায় বড় অঙ্কের রাজস্ব হারানো, বিভিন্ন স্টেডিয়ামে ইজারাদারদের দৌরাত্ম্যে নাভিশ্বস পরিস্থিতি, সর্বোপরি ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে অযোগ্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দখলদারিত্ব নিয়েও কথা হয়। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরের বেহাল চিত্র, বৈধ-অবৈধ দোকান সংখ্যা এবং তা থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের পরিমাণ প্রকাশের দাবি জানানো হয় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা বিকেএসপিগুলোকে আধুনিক করা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার পরিবেশ ফেরাতে ব্যবস্থা নেওয়া, শুধু আন্তর্জাতিক সাফল্যের কথা না ভেবে সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে একটা খেলাপাগল জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে করণীয় সম্পর্কে নানা পরামর্শ ক্রীড়া উপদেষ্টাকে দিয়েছেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের তুলে এনে সঠিক পরিচর্যার মধ্য দিয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড় সৃষ্টির দিকেও জোর দিতে বলা হয়। পাশাপাশি একজন ক্রীড়া সাংবাদিক মহিলা ক্রীড়া সংস্থা বিলুপ্ত করে প্রতিটি ক্রীড়া ফেডারেশন-অ্যাসোসিয়েশন, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থায় নারীদের জন্য সংরক্ষিত পদ রাখার কথাও বলেন। ঢাকার আশপাশের মাঠগুলোকে খেলোয়াড়বান্ধব করে তোলার দাবিও আসে অনেকের কাছ থেকে।
দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্র জোর দিয়েছেন জাতীয় খেলাপাগল জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার। সেটা করতে পারলে এমনিতেই প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে মনে করেন তিনি, ‘খেলা তো মানুষ গড়ার জন্য। খেলা নেতৃত্ব শেখায়, শৃঙ্খলা, ত্যাগ শেখায়। আসলে খেলা কমপ্লিট ম্যানেজমেন্ট শেখায়। খেলা উত্থান-পতন শেখায়। তাই শুধু আন্তর্জাতিক সাফল্য কিংবা পদকের কথা চিন্তা না করে উচিত সারা দেশে খেলাটা ছড়িয়ে দেওয়া। ছোটবেলায় ইন্টার স্কুল অ্যাথলেটিকস হতে দেখেছি। শটপুট, ডিসকাস থ্রো, হাইজাম্পের চেষ্টা করেছি। অথচ আমাদের বাচ্চারা জীবনে শটপুট হাতে নেয়নি। তাহলে কোথা থেকে অলিম্পিকে সোনা জিতবেন? সারা দেশে খেলার আনন্দে খেলার পরিবেশ তৈরি করেন। স্কুলগুলোতে খেলা বাধ্যতামূলক করেন।’
বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান রাজিব বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ক্রিকেট-ফুটবল বাদে বাকি সব খেলার কোনো নিউজ আমরা গত প্রায় এক মাসে করিনি। পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে ক্রীড়াঙ্গন। এর সংস্কারের নানা উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি আপনার কাছে অনুরোধ খেলাধুলাগুলো নিয়মিত করুন। আমরা খেলাধুলার খবরই প্রকাশ করতে চাই।’
সম্প্রতি ক্রীড়া ফেডারেশনের সংস্কারের জন্য একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে রাখা হয়েছে দুই অভিজ্ঞ ক্রীড়া সাংবাদিককে। এ ছাড়া বিলুপ্ত ঘটা বিভাগ, জেলা, উপেজলা ক্রীড়া সংস্থার জন্য আহ্বায়ক কমিটির ব্যাপারে যে নির্দেশনা রাখা হয়েছে, সেখানেও ক্রীড়া সাংবাদিক রাখতে বলা হয়েছে। চ্যানেল আইয়ের ক্রীড়া সম্পাদক সাইদুর রহমান শামীম বিভিন্ন কমিটিতে ক্রীড়া সাংবাদিকদের রাখার সিদ্ধান্ত পেশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবহিত করে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান।
দেশ রূপান্তরের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সুদীপ্ত আনন্দ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামকে ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ করে তোলার অনুরোধ জানান। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ক্রীড়া সম্পাদক রাশিদা আফজালুননেসা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অনিয়ম-দুর্নীতি, দলীয়করণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক শামীম চৌধুরী তুলে ধরেন ক্রিকেট বোর্ডের নানা অনিয়মের ফিরিস্তি।
সব শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের গঠনমূলক মন্তব্য আমরা পর্যালোচনা করব। ক্রীড়াঙ্গনে আপনারা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছেন। আপনাদের পর্যবেক্ষণকে আমরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করি। এজন্য সার্চ কমিটিতে দুজন এবং জেলা পর্যায়েও ক্রীড়া সাংবাদিক প্রতিনিধি রেখেছি। সার্চ কমিটি ফেডারেশনগুলো পর্যালোচনা করে আমাদের প্রতিবেদন দেবে। আমরা এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান, যাতে কোনো প্রতিবেদনে খেলোয়াড়দের ওপর কোনো বাড়তি চাপ সৃষ্টি না হয়।
জয় আর বাংলাদেশের মধ্যে বাধা প্রকৃতি
পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ দিয়ে সাফ শুরু করবে সাবিনারা
আজই জিততে চেয়েছিল বাংলাদেশ
প্রথমবার নারী জাতীয় ক্রিকেট লিগ চ্যাম্পিয়ন ময়মনসিংহ