নানা প্রয়োজনে মানুষ তার টাকা-পয়সা, অর্থ-সম্পদ ও দামি বস্তু মানুষের কাছে গচ্ছিত রাখে। দামি গয়না বা অলংকারও এক সময় হেফাজতের জন্য কারও সিন্দুকে জমা রাখা হতো। আধুনিক যুগে ব্যাংকে টাকা-পয়সা গচ্ছিত রাখা হয়। যাতে টাকা পয়সা হেফাজতে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে জমি বন্ধক এবং সম্পদ জমা রাখারও প্রচলন আছে। উদ্দেশ্য হলো অর্থ-সম্পদ প্রভৃতি হেফাজত করা। চুরি, ডাকাতি ও লুট হওয়ার ভয়েই সাধারণত এভাবে অর্থ-সম্পদ জমা রাখা হয়। যাতে দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করা যায়।
কিন্তু অত্যন্ত হতাশার কথা হচ্ছে, এ জাতীয় আমানত গ্রহণকারী বা বন্ধক গ্রহীতা গচ্ছিত এ অর্থ-সম্পদ তার মূল মালিককে ফিরিয়ে দিতে গড়িমসি করে। বিভিন্ন ওজর আপত্তি বা বাহানা তালাশ করে, যা কখনো কারও জন্য কাম্য নয়। এজন্য আমানত বা বন্ধক গ্রহণকারীর জন্য কর্তব্য হলো, নির্দিষ্ট বৈধ শর্ত সাপেক্ষে পাওনাদারকে তার প্রাপ্য হক যথাসময়ে বুঝিয়ে দেওয়া। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা তোমাদের আদেশ করছেন আমানত তার হকদারকে ফিরিয়ে দিতে।’ (সুরা নিসা ৫৮)
উল্লিখিত আয়াত আমাদের গচ্ছিত অর্থ-সম্পদ ও আমানত তার প্রাপকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে পরিষ্কার নির্দেশনা প্রদান করে। সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে, আমানতের খেয়ানত করা তথা আত্মসাৎ করা মুনাফেকি। কাজেই এমন আচরণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। যে সব কারণে মানুষ মুনাফিক হয়ে যায়, তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে আমানতের খেয়ানত করা। আর মুনাফিকের ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম। সাহাবি হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পর এমন লোক আসবে, যারা খেয়ানত করবে, আমানত রক্ষা করবে না। (সহিহ বুখারি)
সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মানুষের নিকট এমন এক ধোঁকার যুগ আসবে, যখন মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদীরূপে এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদীরূপে গণ্য করা হবে। খেয়ানতকারীকে আমানতদার মনে করা হবে। আর আমানতদার আমানতের মধ্যে খেয়ানত করবে। তখন তুচ্ছ লোক জনসাধারণের নেতৃত্ব দেবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ)
এ হাদিসে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বলেছেন, ‘মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী বলে মনে করা হবে।’ বাস্তবে বর্তমানে প্রায় তাই হচ্ছে। একইভাবে মানুষের সম্পদ আত্মসাতকারীকেই আমানতদার ভাবা হচ্ছে। আর অনেক আমানতদারও আমানতের মধ্যে খেয়ানত করছে, যা কখনো উচিত নয়। এজন্য আমাদের জন্য কর্তব্য হলো, আমরা প্রত্যেকের পাওনা হক তার প্রাপককে যথা সময়ে বুঝিয়ে দেব। আল্লাহতায়ালা আমাদের এ জাতীয় মানুষের খেয়ানত করা থেকে বিরত থাকার তওফিক দান করুন।
