বরিশাল নগরীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে বিরোধপূর্ণ একটি বাড়ি দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় দুপক্ষের হাতাহাতিতে নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। গত সোমবার রাত ১১টার দিকে নগরীর ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডে তাদের বাড়ি দখলের চেষ্টার সময় হাতাহাতির এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী তাসনুভা চৌধুরী জোয়া।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্ব স্ব ক্যাম্পাসের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ববি এবং বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার রাতের ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজন হলেন বিএম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান রাফি। তিনি নিজেকে বিএম কলেজের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক বলে দাবি করেন। অন্যপক্ষের আহতরা হলেন ববি শিক্ষার্থী তাসনুভা চৌধুরী জোয়া, তার মা শিক্ষিকা শাহিনা ইয়াসমিন এবং জোয়ার বন্ধু মেহেদি আরেফিন ও মো. রকি।
ববি শিক্ষার্থী তাসনুভা চৌধুরী জোয়ার অভিযোগ, সোমবার রাত ১১টার দিকে ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডে তাদের পারিবারিক বাড়ি দখল করতে হামলা চালায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে একদল যুবক। ওই দলে ছিলেন বিএম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান রাফি, এস এম হাসান রাজু ও নাহিদ আলমসহ প্রায় ২০ জন। এ সময় জোয়া ও তার মা শাহীনা ইয়াসমিনকে হেনস্তা করা হয়। বিরোধপূর্ণ ওই বাড়ি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। সেই মামলা তুলে নিতে জোয়ার বাবা ফরহাদ আলম চৌধুরীকে উঠিয়ে নিয়ে হত্যার হুমকি দেয় হামলাকারী যুবকরা। এ ঘটনায় জোয়ার পরিবারের নিরাপত্তা ও হামলায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন ববি শিক্ষার্থীরা।
তাসনুভা চৌধুরী জোয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশের একটি পরিবারের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত একটি মামলা চলমান রয়েছে। ওই পরিবার অনেক দিন ধরে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। কিন্তু আমরা মামলা প্রত্যাহার না করায় সোমবার রাত ১১টার দিকে আমাদের বাড়ির তিনতলায় উঠে বিএম কলেজের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে দরজা ধাক্কা দিচ্ছিল। একপর্যায়ে তাদের পরিচয় জেনে আমি বলেছি, বাবা এখন বাসায় নেই, আপনার এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পরে আসেন। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমান রাফি নামে এক ছেলে উত্তেজিত হয়ে বিভিন্ন রকম গালাগাল করে আমাদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। পরে আমি নিরাপত্তার জন্য আমার বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের কাছে সহযোগিতা চাই।’
জোয়া আরও বলেন, ‘পরে আমার সহপাঠী ভাইয়েরা এলে তাদের বিভিন্ন রকম হুমকি দেয়। উসকানিমূলক আচরণ করে বিএম কলেজের ওই শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে আমার ভাইদের গায়ে হাত তোলে। এতে আমার বন্ধু ববি শিক্ষার্থী মেহেদি আরেফিনের হাত ফেটে গেছে এবং ববি শিক্ষার্থী রকির হাতে কেটে গেছে। আমিসহ আমার মাও আহত হয়েছেন, তাকেও ওই দুর্বৃত্তরা হেনস্তা করেছে। আমি ওই দুর্বৃত্তদের বিচার দাবি করছি। ওরা রাতের আঁধারে আমার বাড়ি দখল করতে আসছিল।’
তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিএম কলেজের সমন্বয়ক মুস্তাফিজুর রহমান রাফির ওপর হামলা চালানো হয়েছে অভিযোগ করে গতকাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা রাফির ওপর ‘হামলায়’ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেন।
অবশ্য সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হুজাইফা রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মুস্তাফিজুর রহমান রাফি নামের কাউকে আমরা আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে চিনি না। সমন্বয়ক ব্যানার ব্যবহার করে অনেকেই এখন অনৈতিক কাজ করছেন। এদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
