গত বছরের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলার জন্য ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সদ্য প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল মঙ্গলবার হামাসের শীর্ষ ছয় নেতার বিরুদ্ধে কয়েকটি ফৌজদারি অভিযোগ গঠনের কথা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। শীর্ষ এই ছয় নেতার মধ্যে তিনজনই বর্তমানে মৃত। খবর বিবিসি এবং আল জাজিরা।
গত বছরের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার ঘটনার পরিকল্পনা, সমর্থন ও তা সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই হামলায় ৪০ জনের বেশি মার্কিনসহ ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছিল ইসরায়েল।
এছাড়া গত বছর ইসরায়েলে হামলার পাশাপাশি হামাসের কয়েক দশকের কথিত হামলার অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, হামাসের নতুন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার (যিনি গাজায় রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়), হামাসের বৈদেশিক শাখার প্রধান খালেদ মেশাল (যিনি দোহায় থাকেন), হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলি বারাকা যিনি লেবাননে থাকেন।
এছাড়া ছয় আসামির মধ্যে যে তিন নেতা মারা গেছেন তাঁরা হলেন হামাসের সাবেক রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ, যিনি গত জুলাই মাসে তেহরানে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল বলেছে, দেইফকে জুলাইয়ে বিমান হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে মার্চে আরেক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন মারওয়ান।
মার্কিন বিচার বিভাগ বলছে, মার্কিন নাগরিকদের হত্যা, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ষড়যন্ত্র এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারসহ সাতটি অভিযোগে ছয় হামাস সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার এক ভিডিওতে এসব অভিযোগের কথা জানান মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড। তিনি বলেন, ‘বিবাদী ব্যক্তিরা ইরান সরকারের অস্ত্র, সমর্থন ও অর্থায়নে এবং হিজবুল্লাহর সহযোগিতায় ইসরায়েলের ধ্বংস সাধন এবং বেসামরিক লোকজনকে হত্যায় হামাসের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।‘
গত ফেব্রুয়ারিতেই এই ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচার বিভাগের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে সমস্ত "আসামি মৃত বা পলাতক"। দোষী সাব্যস্ত হলে, দলটির সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
এদিকে ৭ অক্টোবরের হামলার প্রতিশোধে ওই দিন থেকেই অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্বর আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের হামলায় উপত্যকাটিতে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার ৮০০–এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন অগণিত মানুষ।
