স্ত্রীকে তালাকের পর আবার বিয়ে করে হত্যা

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৪৩ পিএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার উত্তর হিজলতলী এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। আজ বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর বাগবের এলাকার আজমত আলীর মেয়ে মল্লিকা আক্তার (২৬)। তিনি স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন।

এলাকাবাসী, নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭/৮ বছর আগে শেরপুরের সদর উপজেলার শেখহাটি এলাকার শাজাহান মিয়ার ছেলে সুজন আহম্মেদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে মল্লিকার বিয়ে হয়। এরপর স্বামী—স্ত্রী দুজনেই গ্রামের বাড়ি শেখহাটিতে বসবাস করতেন। তাদের সংসার জীবনে তোয়ামনি নামে পাঁচ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সময় পারিবারিক কলহের জেরে তাদের স্বামী—স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হতো। শুধু তাই নয়, বাবার বাড়ি থেকে টাকা—পয়সা না এনে দিলে স্ত্রী মল্লিকাকে বিভিন্ন সময় মারধর করতেন তার স্বামী সুজন। এক পর্যায় পারিবারিকভাবে তাদের স্বামী—স্ত্রীর তালাক হলে মল্লিকা তার বাবার বাড়ি উত্তর বাগবের চলে আসে। কিন্তু স্বামী সুজন গত তিন মাস আগে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে আবারো সামাজিকভাবে মল্লিকাকে বিয়ে করে। এরপর তারা উপজেলা উত্তর হিজলতলী এলাকার আব্দুল বারেক সরকারের বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে ভাড়া থেকে স্ত্রী মল্লিকা স্থানীয় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং তার স্বামী সুজন অটোরিকশা চালাতেন। মাসখানেক আগে থেকে আবারো মল্লিকাকে অত্যাচার নির্যাতন করে আসছিলেন স্বামী সুজন। গত মঙ্গলবার রাতেও স্বামী—স্ত্রী দুজনের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়। এর জেরে স্বামী সুজন বুধবার ভোর ৪টার দিকে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্ত্রী মল্লিকার বুকে আঘাত করে। পরে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় সুজন। যাওয়ার সময় তিনি পাশের এক নারীকে বলে যান, ‘ওরে শেষ করে গেলাম, পারলে ওরে বাঁচাও’। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মল্লিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

কালিয়াকৈর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার্ (ওসি) এ এফ এম নাসিম জানান, হত্যাকান্ডের পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত