আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এবার মহাদেশটির সামগ্রিক উন্নয়নে আরও ৫১ বিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে শুরু হওয়া ফোরাম অন চীন-আফ্রিকা কো-অপারেশনের সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন শি। সেই সঙ্গে আফ্রিকার দেশগুলোতে অন্তত ১০ লাখ কর্মসংস্থার সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্মেলনটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের বৃহত্তম কূটনৈতিক আয়োজন। ৫০টিরও বেশি দেশের নেতাসহ ৩ হাজার ২০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। এবারের চীন-আফ্রিকা সম্মেলনের মূল সেøাগান, ‘আধুনিকীকরণে অগ্রসর হওয়া এবং একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎকে মাথায় রেখে উচ্চস্তরের চীন-আফ্রিকা সম্প্রদায় গড়ে তোলা’।
তিন দিনের এই শীর্ষ সম্মেলনের আফ্রিকার দেশগুলোর নেতারা অবকাঠামো, কৃষি, খনি এবং জ¦ালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে চীনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক চুক্তিস্বাক্ষর করেছেন। যা বিভিন্ন ঋণ ও অন্যান্য সহায়তা আকারে দেওয়া হবে। এসব ঋণ ও সহায়তা আফ্রিকা জুড়ে সংযোগ বাড়াতে ৩০টি অবকাঠামো প্রকল্পে সহায়তা করবে। পাশাপাশি নাইরোবি ও মোমবাসার মধ্যে রেলপথ সম্প্রসারণ এবং কেনিয়ার পশ্চিমে একটি মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত বিষয়েও আফ্রিকার দেশগুলোকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে বেইজিং।
উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আফ্রিকাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন চীনের প্রেসিডেন্ট। সম্মেলনে দেওয়া নিজের বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে সড়ক, রেলপথ, স্কুল, হাসপাতাল, শিল্প পার্ক এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করেছি। এই প্রকল্পগুলো অনেক মানুষের জীবন ও ভাগ্য পরিবর্তন করেছে।’ সেই সঙ্গে চীন ও আফ্রিকার জনগণ একসঙ্গে কাজ করে নতুন লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম। পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বও দিতে পারে।
চীন আফ্রিকার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। আফ্রিকার দেশগুলোর খনিজ, জ¦ালানি এবং ধাতু খাতের এক-চতুর্থাংশ রপ্তানি পণ্য চীনের বাজারে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে বেইজিং আফ্রিকার দেশগুলোর বৃহত্তম ঋণদাতাও। ২০০৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে আফ্রিকার দেশগুলোকে ১৯১ বিলিয়ন ঋণ সহায়তা দিয়েছিল চীন। এদিকে চীনের এই পদক্ষেপকে শক্তি বৃদ্ধির প্রয়াস হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে বেইজিং। চীনের প্রবল জনসংখ্যা সংকট এবং অর্থনীতি ধীরগতি আফ্রিকা মহাদেশে চীনের প্রভাব বিস্তারের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
