যুক্তরাষ্ট্রের ভোটে রুশ জুজু

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:২১ এএম

নভেম্বরে হতে যাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করতে ক্রেমলিনের প্রচেষ্টা নিয়ে অভিযোগ তোলে বাইডেনের প্রশাসন। তার প্রেক্ষিতে ‘ভুয়া তথ্য প্রচার’ ঘিরে ফৌজদারি মামলা, ইন্টারনেট ডোমেইন আটক এবং নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নির্বাচনে হস্তক্ষেপের বিষয়ে মূল অভিযোগ তোলা হয় রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন আরটির বিরুদ্ধে। একটি ফৌজদারি মামলায় আরটির দুজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানকে গোপনে অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, প্রোপাগান্ডামূলক দুই হাজার ভিডিও প্রকাশ করার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার অর্থ প্রদান করে ওই দুই ব্যক্তি। অভিযুক্ত কসতিয়ান্তিন কালাশনিকভ ও ইলিনা আফানাসইয়েভার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র ও বিদেশি প্রতিনিধি নিবন্ধন আইন অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। তবে রাশিয়া টুডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছিল এবং সে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটি অবগত ছিল না। পাশাপাশি ৩২টি ইন্টারনেট ডোমেইন আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রুশ প্রোপাগান্ডা ছড়াতে এসব ডোমেইন ব্যবহার করে ক্রেমলিন। এ ছাড়া আরও ১০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ-সংক্রান্ত প্রমাণ দিতে পারলে ১০ মিলিয়ন ডলার অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া ব্যবহার করে সাধারণ নাগরিকদের মাধ্যমে ভুয়া তথ্য এবং প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় ছিল বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড। সেই সঙ্গে নির্বাচনে বিদেশি শক্তির প্রভাব রুখতে নতুন ভিসানীতি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা বলেন, ওয়াশিংটনকে এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে, নির্বাচনে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের আড়াই কোটি ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস। বুধবার নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের পোর্টসমাউথ শহরে একটি জনসভায় দেওয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন তিনি। নিজের প্রথম মেয়াদে কমলা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছে তার নির্বাচনী প্রচারণা শিবির। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করছাড় ১০ গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কমলা। পাশাপাশি তাদের জন্য কর কর্তনের পরিমাণ ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার ডলার করার ঘোষণা দেবেন। সেই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য প্রশাসনিক জটিলতাও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে কমলার। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই কমলা অর্থনীতির বিষয়ে কথা বলে আসছিলেন। এই ঘোষণায় এবার সে বিষয়টি স্পষ্ট হলো। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর পদ থেকে জো বাইডেন সরে দাঁড়ানোর পর থেকে আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন। বাইডেনের পরিবর্তে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে রিপাবলিকানদের সঙ্গে ব্যবধান কমতে থাকে ডেমোক্র্যাটদের। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন কমলা। এমনকি দোদুল্যমান ছয় রাজ্যের নির্বাচন-পূর্ব জরিপেও ট্রাম্পের থেকে এগিয়ে রয়েছেন কমলা। উইসকনসিন ও মিশিগানে ট্রাম্পের থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন তিনি। জর্জিয়া, নেভাদা ও পেনসিলভেনিয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে অ্যারিজোনায় কমলার চেয়ে এখনো এগিয়ে আছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত