উদ্বোধনের ১৩ বছর পরও নিশ্চিত হয়নি চিকিৎসা সেবা

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০২:৩৪ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ৫ নং ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হয় ২০১১ সালে।উদ্বোধনের ১৩ বছর পরও নিশ্চিত হয়নি চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রম। দাবি করা হয় স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি অনুমোদন না হওয়ায় জনবল শূন্যের কারণে চালু করা যাচ্ছে না স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা কার্যক্রম। ফলে অনেকদিন ধরে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে প্রান্তিক পর্যায়ে ওই অঞ্চলের সাধারণ জনগণ। অব্যবহৃতভাবে পড়ে থাকার কারণে নষ্ট হচ্ছে ভবনটি। তাই দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালুর দাবি এলাকাবাসির।

জানা যায়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি বাগাতিপাড়া হতে পূর্ব উত্তরে ৫নং ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড ফাগুয়য়াড়দিয়াড় বাজারে পোষ্ট অফিস সংলগ্ন দক্ষিণ পশ্চিম পাশ্বে অবস্থিত। উক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দুতলা বিশিষ্ট। ওই ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার ২৬৩ জন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৭ সালে ভবনটি স্থাপিত হলেও নানা জটিলতার কারণে ২০১১ সালে এর উদ্বোধন হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ওই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি অনুমোদন না হওয়ায় চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। ফলে কোটি টাকার ভবনটি কোনো কার্যক্রম ছাড়াই অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখা যায় যে তাদের কার্যক্রম চলছে। ওয়েবসাইটে লেখা আছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সপ্তাহে ৬দিন মা ও শিশুর সেবা প্রদান, সাধারন চিকিৎসা, সাধারন রোগিদের চিকিৎসার পাশাপাশি ঔষধ প্রদান করা হয়ে থাকে। ইউনিয়নের যে সকল রোগি সেবা নিতে আসে তাদের রোগের সঠিক চিকিৎসা ও পরামশ প্রদান করা হয়ে তাকে।গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা, মা ও বাচ্চার সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো কার্যক্রম নেই। ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, দ্বিতলা ভবনটির চারপাশ নোংরা, আবর্জনায় ও ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ। ভবটির ছাদ ও দেওয়াল ভর্তি হয়ে আছে লতাপাতায়। ভবনটির প্রবেশদারে লতাপাতা, বড় বড় ঘাসে ভরপুর। ভিতরে ময়লা আবর্জনা পড়ে স্তুপে পরিণত হয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে যেন একটা পরিত্যাক্ত ভবন। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তর হতে আপাতত সপ্তাহে দুই দিন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে গিয়ে পাওয়া যায় উল্টো রুপ। এলাকার কিছু রোগী নির্ধারিত দিনে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সেবাদানকারী কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপস্থিতি না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের।

জানা যায়,উপজেলায় ৫ টি ইউনিয়নের বাকী ৪ টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র থাকলেও শুধু সদরেই রয়েছে একজন ডিগ্রি ধারি ডাক্তার আর বাকী ৩ টির চিকিৎসা সেবা চলে শুধু ফার্মাসিস্ট দিয়ে। আর ওই স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি জনবল শূন্য হওয়ায় ফলে তালাবন্ধ থাকে অধিকাংশ সময়। তবে আপাতত সপ্তাহে ২ দিন অন্য ইউনিয়ন থেকে একজন ফার্মাসিস্ট এসে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন বলে জানা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের ছোটখাটো রোগের চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। এতে করে তাদের যেমন সময়ের অপচয় হয় আবার গুনতে হয় পরিবহন খরচ। কোটি টাকা খরচ করে ভবন তৈরি করে চকিৎসা সেবা যদি না পাওয়া যায় তবে এই ভবটি নির্মাণ করে অর্থ অপচয় করার প্রয়োজন কি ছিল। তাই জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দ্রুত নিয়মিতভাবে চালু করার দাবি জানান তারা।

ওই ইউনিয়নের গর্ভবতী মহিলা আশা (২১) ও নীলা খাতুন (২০) জানান, তারা উভয়েই মেডিকেল চেকআপ করাতে সকাল ৯ টা থেকে ১০ পর্যন্ত বসে আছেন। অপেক্ষার এক পর্যায়ে মুঠোফোন এর মাধ্যমে তারা জানতে পারেন তাদের যিনি চেকআপ করবেন তিনি আজকে আসবেন না। বাধ্য হয়ে তাদের বাড়ি ফিরে যেতে হয়।

তারা আরও জানান,ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সপ্তাহে একদিন সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা ঔষধ পত্র দেন ও একদিন গর্ভবতী মায়েদের দেখেন। তাও কোনো কোনো সপ্তাহে কেও আসেন না।

৫ নং ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এএসএম লেলিন জানান, এই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বন্ধই থাকে বেশির ভাগ সময়। বন্ধ থাকার কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ।বিভিন্ন সময় পরিষদের মিটিংএ চিকিৎসা সেবা চালু করার বিষয় উপস্থাপন করা হলেও কোনো কাজে আসেনি। কর্তৃপক্ষ সব সময় জনবল সংকটের কথাই জানিয়ে আসছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের মেডিকেল অফিসার ডা.নাইমা জাহান জানান, ওই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি সরকারিভাবে অনুমোদন না হওয়া এবং জনবল শূন্য হওয়ায় চালু করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া বাকী ৪ টা ইউনিয়নেও পর্যাপ্ত জনবল নেই। তাই অন্য ইউনিয়ন থেকে লোক নিয়ে এসে চালানোও কঠিন। তবে অন্য ইউনিয়ন হতে একজন ফার্মাসিস্ট এনে আপাতত সপ্তাহে দুই দিন চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শরীফ মো. জামিউর রহমান জানান, তিনি উপজেলায় নতুন যোগদান করেছেন। জনবল না থাকায় ওই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সপ্তাহে ২ দিন স্বাস্থ সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।নতুন জনবল এর জন্য স্ব অধিদপ্তরে কিছুদিন আগে আবেদন করেছেন। আর ওয়েব সাইটে তথ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, সম্ববত কেও ভুল করে দিয়েছেন পরবর্তীতে সেটা ঠিক করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত