গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি, প্রসব হলো মৃত নবজাতক!

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:৪৪ পিএম

ফরিদপুরের সালথায় আরিফা বেগম (২০) নামে এক গর্ভবতী নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও পেটে লাথি মারায় রক্তক্ষরণের পর মৃত নবজাতক প্রসবের অভিযোগ করেছেন ওই নারীর পরিবার। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই নারীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

আরিফা বেগম গোপালিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের মেয়ে ও একই উপজেলার বাহিরদিয়া গ্রামের শওকত মোল্যার স্ত্রী। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের গোপালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

পরিবারের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে একটি পক্ষের লোকজনের হামলায় ইয়ার আলী (৫২) নামের এক মুদি দোকানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার মারা যান। এরপর থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে মাঝেমধ্যেই ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে শওকত মোল্লার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। 

এর একপর্যায়ে হামলাকারীদের বাধা দিলে গর্ভবতী আরিফাকে পেটে লাথি মারা হলে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে আরিফার মৃত বাচ্চা প্রসব করে। এরপরও রাতে হাসপাতালে আরিফাকে নিতে দেইনি প্রতিপক্ষের লোকজন। অতঃপর পাশের গ্রামের লোকজনের সহযোগিতায় শুক্রবার সকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে এসকল অভিযোগ ভিত্তিহীন ও একটা পক্ষকে ফাঁসানোর পাঁয়তারা বলে দাবি করেছেন বিপরীত পক্ষের গ্রাম্য নেতা আইয়ূব মাতুব্বর। তিনি বলেন, ওই নারীকে কোনপ্রকার মারধর কিংবা নির্যাতন করা হয়নি। এরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের পক্ষের লোকজন ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। ওই নারীর এমনিতেই গর্ভপাত হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় একটি হত্যা মামলা ধামাচাপা দিতে আরেকটি নবজাতক হত্যার নাটক সাজাচ্ছেন তারা।

এ ব্যাপারে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান বলেন, এমন একটা ঘটনার খবর শুনেছি, ওই নারীর এর আগেও গর্ভপাত হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানতে পেরেছি। এছাড়া কয়েকদিন আগে ওই এলাকায় একটা মার্ডার হয়েছে। বিষয়টি অন্যদিকে প্রবাহিত করতে এমনটা করা হচ্ছে বলে প্রতিপক্ষ দাবি করছেন। তাই সবকিছু মাথায় নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত