সাবেক মন্ত্রীসহ ১৮ জনের নামে চট্টগ্রামে মামলা

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:০১ এএম

চট্টগ্রামে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতিসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে নগরীর কোতোয়ালি থানায়। গতকাল শুক্রবার কর্ণফুলী এ জে চৌধুরী কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম দস্তগীর বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

অন্যদিকে কুমিল্লার তিতাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে সাবেক দুই সংসদ সদস্য (এমপি), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ১৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি এসএম ওবায়দুল কাদের।

এ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৪ আগস্ট দুপুরে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের মিলনায়তনে আলাপ শেষে কোতোয়ালি থানার পশ্চিমে জনতার সমাবেশে বাদী জাহাঙ্গীর আলম যোগ দিলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে বাম পা রক্তাক্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। বাদীর অভিযোগ জনতার ফাঁকে গুলি করে তাকে মেরে ফেলতে পরস্পর যোগসাজশে হামলা করেন আসামিরা।

মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন কর্ণফুলী এ চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ মো. জসীম উদ্দিন (৫২), সমীর রঞ্জন নাথ (৪৫), মনোয়ারা বেগম (৪২), শামীমা আক্তার চৌধুরী (৪৭), পাঁচলাইশ মির্জারপুল এলাকার মোস্তফা মো. ইমরান (৩৮), চকবাজার কাপাসগোলা এলাকার মনসুরুল আনোয়ার (৫৮), জয়সেন বড়ুয়া (৫০), সদরঘাট গোসাইডাঙার এমএ সেলিম (৫৫), কাজীর দেউড়ি এলাকার আবদুস সালাম, পাঁচলাইশ এলাকার ছোটন দত্ত, জামাল খান এলাকার আবুল কাশেম, চকবাজার এলাকার মোক্তার আহাম্মদ প্রকাশ লেদু, ইলিয়াছ, আবু সৈয়দ, পটিয়ার কাজী মহি উদ্দিন (৫০) ও ভূজপুর থানার মো. ইয়াকুব (৫০) প্রমুখ। মামলাটি এসআই বাবুল কুমার পাল তদন্ত করবেন বলে জানা গেছে।

তিতাসে সাবেক দুই এমপিসহ ১৪২ জনের নামে মামলা : কুমিল্লার তিতাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও বিস্ফোরণের অভিযোগে সাবেক দুই এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ১৪২ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিতাস থানায় জামির হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। তিনি উপজেলার কড়িকান্দি ইউনিয়নের কড়িকান্দি গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে। মামলায় আরও ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) সংসদীয় আসনের সদ্য সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আমির হোসেন ভূঁইয়া, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন ও তিতাস উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে এবং আন্দোলনকারীদের হত্যার উদ্দেশ্যে সাবেক দুই এমপির নির্দেশে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, এলোপাতাড়ি গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে কয়েকজন রক্তাক্ত জখম এবং ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।

মামলার বাদী জামির হোসেন এজাহারে উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কড়িকান্দি বাজার থেকে মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি গৌরীপুর-হোমনা সড়কের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গেলেই হামলার মুখে পড়েন।

জামির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দল করি না। ছাত্রদের সমর্থনে মিছিলে গিয়ে আমার হাতে গুলি লাগে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত