যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিসের থেকে পিছিয়ে পড়ছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টি থেকেও ভোটের আগে বিরোধিতার মুখে পড়ছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট। আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারই দলের শীর্ষ নেতা ডিক চেনি ও তার মেয়ে লিজ চেনি। এমনকি আগামী নভেম্বরে নির্বাচনে এখনো ট্রাম্পকে ভোট দেবেন কি নাÑ সে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি আরেক রিপাবলিকান জর্জ ডব্লিউ বুশ। গত শনিবার জর্জ ডব্লিউ বুশের একজন মুখপাত্র এ কথা জানান।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও তার স্ত্রী লরা বুশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিসকে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। ২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন এই রিপাবলিকান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বুশের এই মুখপাত্র বলেন, ‘তিনি অনেক বছর আগে থেকেই প্রেসিডেনশিয়াল রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে নিজের ভোট ট্রাম্পকে দেবেন কি না সেটি নিশ্চিত নয়।’
এদিকে, আসন্ন নির্বাচনে নিজ দলীয় সমর্থনের বাইরে গিয়ে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শীর্ষ রিপাবলিকান নেতা ডিক চেনি। তার মেয়ে লিজ চেনিও ট্রাম্পের বদলে কমলাকে ভোট দেবেন। ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ডিক চেনি। অন্যদিকে তার মেয়ে লিজ চেনি রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এমনকি ট্রাম্পকে সমর্থন না করার ঘোষণা দিয়েছেন তারই অধীনে চার বছর ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা মাইক পেন্সও।
আগামীকাল ডেমোক্র্যাট পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিসের বিপক্ষে নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আগে নিজ দলের নেতাদের সমর্থন হারানোকে ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করবে। রিপাবলিকান নেতাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্ট থাকাকালে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডিক চেনি।
