ব্যাংকের ৯৫ শতাংশ আমানতকারী নিরাপদ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:৩০ এএম

দেশের কিছু ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার মতো খারাপ অবস্থায় থাকলেও আমানতকারীদের শঙ্কার কারণ নেই। আমানতকারীদের ৯৫ শতাংশই নিরাপদে থাকবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, আমানতকারীদের সুরক্ষায় আমরা আমানত বীমা স্কিমের পরিমাণ দ্বিগুণ করেছি। ব্যাংক খাতের সংস্কারও শুরু হয়েছে। তাই আমানতকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমরা আশা করি না কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হোক, তবে ১০টি ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার মতো খারাপ অবস্থায় চলে গেছে। সরকার তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, এখন যদি কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়েও যায় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আমানত বীমা স্কিম থেকে ব্যাংকটির ৯৪ দশমিক ৬ শতাংশ আমানতকারীর সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়া যাবে।

গভর্নর বলেন, আমানত বীমা স্কিমের পরিমাণ ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাধ্যমে প্রায় ৯৫ শতাংশ আমানতকারীর আমানত সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ করা হয়েছে।  কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হলে ছোট ছোট আমানতকারীরা সঙ্গে সঙ্গে টাকা ফেরত পাবেন। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ইতিমধ্যে ব্যাংক খাতে সংস্কার শুরু হয়েছে। কিছু হলেও কাজ হচ্ছে। এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। তাই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গভর্নর।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের বিষয়ে গভর্নর বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা কোনো প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দ করিনি। সেটা এস আলমের হোক বা সালমান এফ রহমানের হোক। যাদের হিসাব জব্দ করা হয়েছে সবগুলো ব্যক্তি হিসাব। আমরা কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে হাত দিতে চাই না। কর্মসংস্থান নষ্ট এবং উৎপাদন ব্যাহত হোক, আমরা সেটা চাই না।

তিনি আরও বলেন, এসএমই ঋণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল আছে। কিন্তু আমরা তা বিতরণ করতে পারছি না। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দিতে পারছি না। শুধু তাই নয়, বিশ^ব্যাংক ও আইএমএফ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগ করতে যায়। কিন্তু কোনো একটা সমস্যার কারণে ব্যাংকের মাধ্যমে এ ঋণগুলো বিতরণ হচ্ছে না। আমরা ব্যাংকগুলোকে লিখিতভাবে এই সমস্যা কারণ এবং সমাধান জানাতে বলেছি। খুব শিগগিরই ক্ষুদ্র ঋণের প্রবাহ ব্যাপকভাবে বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আগামী ১০ দিনের মধ্যে টাস্কফোর্স তাদের কাজ শুরু করবে জানিয়ে গভর্নর বলেন, টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের সমস্যা নিরূপণ এবং আগের নীতিমালাগুলো পর্যালোচনা করা হবে। যদি দেখা যায় যে, কোনো নীতিমালা শুধু গুটিকয়েক ব্যবসায়ের জন্য করা হয়েছে, তাহলে সেটা বাতিল করা হবে। আর যদি প্রয়োজন হয় তাহলে থাকবে। ব্যাংক খাতের পরিবারতন্ত্র ভাঙা হবে।

এস আলম গ্রুপ তাদের সম্পদ বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছে, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, আমরা আবারও সতর্ক করে বলে দিতে চাই, যারা এস আলমের সম্পদ কিনবে, তারা নিজ দায়িত্বে কিনবে। এর দায়দায়িত্ব কেউ নেবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত