ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে বিচারের চেষ্টা করা হবে

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:১০ এএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যা চালানো আসামিরা কে কত বড় পদে ছিলেন আইন সেটি দেখবে না বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনগতভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করা হবে।’

গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। তাজুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন দেয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগ। একই প্রজ্ঞাপনে সুপ্রিম কোর্টের আরও চার আইনজীবীকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নিয়োগ লাভের পর প্রধান প্রসিকিউটর গতকালই প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন। এ সময় তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের তদন্ত ও প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম ও বি এম সুলতান মাহমুদ। 

এক প্রশ্নে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আইনের চোখে সবাই সমান। যিনি অপরাধ করেছেন অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী আসামির সঙ্গে আচরণ করা হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী হোক, আইজিপি হোক বা যত বড় ক্ষমতাধর মন্ত্রী হোক, তারা যখন অপরাধী হিসেবে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন প্রত্যেকেই সমান আচরণ পাবেন। তাদের প্রতি জুলুমও করা হবে না, তাদের কোনো ছাড়ও দেওয়া হবে না। তাই এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই যে, এখানে কত বড় আসামি আসবে।’ 

তিনি বলেন, ‘সম্ভাব্য প্রধান অপরাধী (শেখ হাসিনা) দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করব। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে যা করা হয়েছে ২০১৩ সালে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে। তিনি (শেখ হাসিনা) যেহেতু বাংলাদেশে গণহত্যার প্রধান আসামি হবেন বলে আমরা মনে করি বা অধিকাংশ মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। সুতরাং এ প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে তাকে আইনগতভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা আমরা করব।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রথম চেষ্টা থাকবে যারা সম্ভাব্য অপরাধী তারা যাতে আদালতের জুরিসডিকশনের বাইরে যেতে না পারে, দেশ ছেড়ে যেতে না পারে, সেটাকে ঠেকানোর জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব। কারণ তারা যদি বাইরে চলে যায় তাহলে তাদের বিচার করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব ঘটনা ঘটেছে অনেকগুলো অভিযোগ ইতিমধ্যে তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন টিমের কাছে এসেছে। আমরা কাজ শুরু করার মাধ্যমে খুব দ্রুতই বের করে ফেলব যে কারা এই হত্যাকা-, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের নামে দ্রুত অভিযোগ দায়ের করে সে আলোকে তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার যে চেষ্টা, সেটা আমরা শুরু করব।’

‘গণহত্যার’ আলামত সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে, যেহেতু ঘটনাগুলো তাজা, এ মামলায় যারা আসামি হবেন তারা এখনো বাংলাদেশে আছেন। অনেকে দায়িত্বেও আছেন। তারা এ আলামতগুলো ধ্বংস  করার চেষ্টা করবেন। তাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব এ আলামতগুলো দ্রুত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার হাতে নিয়ে আসা। যেন এ আলামতগুলো আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে পারি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত