দুর্নীতি প্রমাণের পরও বহাল তবিয়তে আনিছুর

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:০০ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) কয়েকজন প্রকৌশলীকে নিয়ে চক্র গড়ে তুলেছিলেন সংস্থাটির সদ্য সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। এ চক্রের মাধ্যমে কয়েকশ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এ চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন সংস্থাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) কাজী বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আনিছুর রহমান ও অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মিথুন চন্দ্র শীলসহ আরও বেশ কয়েকজন।

মালামাল না পেয়েই বিল দিয়ে দেওয়া এবং রোড মার্কিং না করেই ভুয়া ব্যাখ্যা দেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে। তার দুর্নীতিসংক্রান্ত বেশ কিছু নথি দেশ রূপান্তরের হাতে এসেছে।

এসব নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত এপ্রিল মাসে প্রকৌশলী আনিছুরের বিরুদ্ধে ‘সাপ্লাই জেনসোলিন এবং থার্মোপ্লাস্টিক পেইন্ট’ শীর্ষক কাজের মালামাল সংগ্রহ না করেই ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার বিল পরিশোধ এবং ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিল পরিশোধের প্রত্যয়নে দুর্নীতি প্রমাণিত হয়। যার ফলে ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রকল্প পরিচালক ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। বিধি অনুসারে এ সংক্রান্ত নথি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে এ বিষয়টি চাপা দেন আনিছুর। চার বছরেও এ তথ্য দুদকে পাঠায়নি ডিএসসিসি।

চুক্তির শর্ত পূরণ না করেই ‘সাপ্লাই পোর্টেবল এয়ার কম্প্রেশার-২’ এবং ‘সাপ্লাই ব্র্যান্ড নিউ বিটুমেন প্রেশার ডিস্ট্রিবিউটর’ শীর্ষক দুটি কাজের জন্য ৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা বিল জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাকডেট দিয়ে পরিশোধ করা হয়েছে।

ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, গত বছর আনিছুর রহমান মেয়াদ উল্লেখ ছাড়া এবং মেয়াদোত্তীর্ণ মালামাল যান্ত্রিক বিভাগের গুদামে রাখেন। তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী সরেজমিন পরিদর্শনে বিষয়টির সত্যতা পান। তখন প্রকল্প পরিচালক ও প্রকৌশলীদের মেয়াদোত্তীর্ণ ও চুক্তিবহির্ভূত পণ্য অপসারণের অনুরোধ করা হয়।

ডিএসসিসির নথি বলছে, পণ্যের বৈশিষ্ট্য এবং মান সম্পর্কে সঠিক ও পরিপূর্ণ বর্ণনা সংশ্লিষ্ট নথিতে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রমাণসহ লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য গত বছর ১৭ জুলাই প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আনিছুরসহ দুই প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তারা ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জায়গায় রোড মার্কিংয়ের কাজ করেছেন। কিন্তু ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগের পরিদর্শনে সেই রোড মার্কিংয়ের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর আনিছুর রহমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।

অভিযোগের বিষয়ে আনিছুর রহমানের মোবাইল ফোনে গত শনিবার যোগাযোগ করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। কিন্তু এরপর একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রশাসক মহ. শের আলী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে গত শনি ও রবিবার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন

 

 
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত