ইরানকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেছে রাশিয়া। নানা বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। তবে এমন এক সময়ে এ ঘোষণা এসেছে, যখন রাশিয়াকে তেহরান গোপনে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। এর মধ্যেই গত সোমবার ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের নতুন এই উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তাতে আরও একবার পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার আশঙ্কায় ইরান।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও রাশিয়ার মধ্য সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। রাশিয়া ইরানের অন্যতম প্রধান মিত্র। পশ্চিমা দেশগুলো গত চার দশক ধরে তেহরানের ওপর নানা রকমের অবরোধ আরোপ করেছে। ইরানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমারা এসব নিষেধাজ্ঞা দেয়। নানা সময়ে এসব বিষয়ে কড়া সমালোচনাও করেছে রাশিয়া। এবার পেসকভের এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উন্নতির দিকটি সামনে নিয়ে এসেছে। পেসকভ বলেন, ইরান আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আমরা আমাদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছি। সবচেয়ে স্পর্শকাতর ক্ষেত্রগুলোসহ সম্ভাব্য সব বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা ও সংলাপ আমরা জোরদার করছি।’ এদিকে, ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ বাহিনীগুলোকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে তাদের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জোটটির একজন মুখপাত্র বলেন, জোটের মিত্ররা এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত হলে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর আগে ইরানের কোনো ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ইউক্রেন যুদ্ধে মারাত্মক উত্তেজনা তৈরির বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে বলে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যদিও ক্রেমলিনের মুখপাত্র পেসকভ বিষয়টি জোরালোভাবে অস্বীকার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘আমরা খবরটি দেখেছি। এ ধরনের তথ্য সবসময় সত্য হয় না।’
তবে রাশিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ আগেই অস্বীকার করেছে তেহরান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের শীর্ষ কমান্ডার ফাজোল্লাহ নোজারি বলেন, ইরান রাশিয়ায় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেনি। এটিকে পশ্চিমাদের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি বলেন, ‘তেহরান ইউক্রেন যুদ্ধের অংশ নয়। যুদ্ধের এক পক্ষের কাছে অস্ত্র রপ্তানির দাবি আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছি।’
তবে ইরানের বিরুদ্ধে রাশিয়াকে অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া যখন ইউক্রেনে হামলা শুরু করে, তখন মস্কোকে নিজেদের তৈরি শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছিল তেহরান।
