আরবি প্রতিটি মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক। একেকটি মাস শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠতর। প্রতিটি মাসের ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিটি মাসের সঙ্গে বিশেষ কোনো ঘটনা জড়িত রয়েছে, যা সেই মাসকে অন্য মাসের তুলনায় শ্রেষ্ঠ করেছে। তবে এই মাসগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস কোনটি? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে অনেক কিছুর সমীকরণ মেলাতে হবে। তবুও সর্বশ্রেষ্ঠ মাস কোনটি, সে হিসাব হয়তো খুঁজে বের করা কঠিন হবে। কারণ প্রতিটি মাসের আলাদা আলাদা গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর নিকট সম্মানিত মাস হিসেবে গণ্য করা হয় জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব মাসকে। (সহিহ বুখারি ৪৬৬২) কারণ এই মাসগুলোতে সব প্রকার যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল।
অন্যদিকে আমরা যদি রমজান মাসের দিকে লক্ষ্য করি, তাহলে দেখতে পাই, মহাগ্রন্থ আল কোরআন নাজিলের মাস এটি। ফলে এই মাসের গুরুত্ব মুসলিম সমাজে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু রমজান মাসের শ্রেষ্ঠত্ব যে কোরআনের জন্য বেড়েছে, সেই কোরআন যে নবীর পর অবতীর্ণ হয়েছে, সেই নবীর আগমনের মাস যে শ্রেষ্ঠতম মাস হিসেবে বিবেচিত হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তারপরও কিছু উদাহরণ দেওয়া যাক, যার আগমনের ফলে বিশ্ববাসী অন্ধকার থেকে আলোর পথ পেল, যার জন্মগ্রহণে মক্কায় বসে ১২০০ কিলোমিটার দূরের সিরিয়ার রাজপ্রাসাদ দেখা গেল, যার পরশে শীর্ণ দেহের উটনী যৌবন ফিরে পেল, যে নবীকে ছায়া দেওয়ার জন্য মেঘমালা তার মাথার ওপর ঘুরে বেড়াত, যে নবীকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ বলে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, যে নবীর পরশ পেয়ে জীব-জন্তুসহ সব কিছু মর্যাদার উচ্চ শিখরে পৌঁছে যায়, মহান আল্লাহর নামের পর যে নবীর নাম সর্বত্র বিরাজমান।
তিনি এমনই একজন মহামানব, যার জন্মে শয়তান ব্যতীত বিশ্ববাসী আনন্দে মেতেছিল। সে নবীর আগমনের মাস বিশ্ববাসীর কাছে অনেক তাৎপর্য ও মর্যাদা বহন করবে সেটাই স্বাভাবিক। আর সে শ্রেষ্ঠতম মাসটি হলো রবিউল আউয়াল মাস। হাদিসে এসেছ, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন। (মুস্তাদরাকে হাকেম ৪১৮২) তাই আসুন, মুসলিম হিসেবে আমরা এই মাসকে তার যথাযথ মর্যাদা অনুযায়ী গ্রহণ করি এবং এই মাসের গুরুত্ব অনুধাবন করে বেশি বেশি নফল ইবাদত করি এবং রাসুল (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করি, যা আমাদের ওপর ওয়াজিব।
