চিকিৎসককে মারধর কর্মবিরতি কক্সবাজার হাসপাতালে

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:৩৮ এএম

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হয়েছেন ডা. সজীব কাজী নামে এক চিকিৎসক। এ ঘটনার পর বুধবার রাত ১টা থেকে কক্সবাজার সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ সব সেবা দুপুর ২টা পর্যন্ত  বন্ধ রাখেন চিকিৎসকরা। ১২ ঘণ্টা পর  সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে পুলিশ আটক করলে চিকিৎসকরা বিভাগ চালু করেন। তবে এখনো  অন্যান্য সেবা দান বন্ধ রেখেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল অফিসাররা।

হামলার শিকার সজীব হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) কর্মরত ছিলেন।

সিসিটিভি ফুটেছে দেখা যায়, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সিসিইউতে কক্সবাজার শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আজিম নামে এক রোগীর মৃত্যুর পর একদল লোক সিসিইউতে প্রবেশ করে প্রথমে ভাঙচুর চালায়। পরে চিকিৎসক সজীবকে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে মারতে মারতে চারতলা থেকে নিচে নামিয়েও মারধর করতে থাকে। এ সময় হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে অন্য চিকিৎসকরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

কক্সবাজার হাসপাতালের সব ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল অফিসাররা জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসকদের কোনো নিরাপত্তা নেই। কোনো কারণ ছাড়াই হামলার শিকার হতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। রাতে একজন চিকিৎসককে অমানবিকভাবে মারধর করা হয়েছে। যেভাবে তাকে মারা হয়েছে, তাতে তার মৃত্যু হতে পারত। আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন। তাই যতক্ষণ ডাক্তারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হবে, ততক্ষণ আমরা কর্মবিরতি করব। তারা সেনাবাহিনী মোতায়েন করে সব ডাক্তারকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আশিকুর রহমান বলেন, রাতে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত চিকিৎসক সজীবের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে  জরুরি বিভাগসহ সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দেন। পরে বুধবার দুপুর ২টার দিকে  জরুরি সেবা চালু করা হয়।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, চিকিৎসকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত